শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

৭৫ লাখ টাকার মালামাল ছাই হইয়া গেছে, আমি সর্বস্বান্ত হইয়া গেসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার ০৮:০১ পিএম

৭৫ লাখ টাকার মালামাল ছাই হইয়া গেছে, আমি সর্বস্বান্ত হইয়া গেসি

ঢাকা: রাজধানী সুপার মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার পলাশ চন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, রাজধানী সুপার মার্কেটে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। পানির ব্যবস্থাও ছিল না। আমরা বিশেষভাবে গাড়িতে করে পানির ব্যবস্থা করেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হই।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ১০ থেকে ১২টি দোকান পুড়ে গেছে। আমরা সব পরিষ্কার করে ভেতরে ঢুকবো। তারপর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো যাবে।

আগুন লাগার কারণ কী ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে দেবাশীষ বর্ধন বলেন, মার্কেটের দোতলা থেকে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাতের প্রকৃত কারণ জানানো যাবে।

বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ১৫ মিনিটে টিকাটুলিতে রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরও চাওয়া হলে ৬ ও ২টি গাড়ি পাঠানো হয়। পরে আরও তিনটি ইউনিট এসে যুক্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দোতলার একটি ইউনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা ছোটাছুটি শুরু করি। মার্কেটের দোতলায় যে পাশে আগুন লেগেছে সেখানে বেডশিট, কাপড়, টেইলার্সের ৩০-৩৫টি দোকান ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে অন্য ইউনিটগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা না গেলেও বাবুল ইসলাম নামে এক দোকানি জানিয়েছেন তার ৭৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কাঁদতে কাঁদতে গণমাধ্যমকে বাবুল বলেন, ‘৭৫ লাখ টাকার মাল ছাই হইয়া গেছে, আমি শ্যাষ ভাই। আমি সর্বস্বান্ত হইয়া গেসি।’

মার্ককেটে বাবুলের দোকানের নাম ফয়সাল বেডিং স্টোর। রাজধানী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তার তিনটি দোকান ছিল। দোকানে কম্বল, বিছানার চাদর, পর্দা ও অন্যান্য পণ্য ছিল।

বাবুল আরো জানান, তিনটি দোকানের দুটিতে তার গোডাউন ছিল। শীতকে কেন্দ্র করে নতুন করে আরও ১০ লাখ টাকার মালামাল তুলেছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দুই তালায় ৭০-৮০টা দোকান আছে। সবটি দোকানই আগুনে পুইড়া ছাই হইয়া গেছে। দোকানের মালগুলাও ছাই হইয়া গেছে।’

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue