মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

৭ মার্চের আগে মেয়াদোত্তীর্ন কমিটি, নতুনদের কাজ বন্টন

নি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার ০৪:২২ পিএম

৭ মার্চের আগে মেয়াদোত্তীর্ন কমিটি, নতুনদের কাজ বন্টন

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের আগে শুরু হওয়া জেলা সম্মেলনের অসমাপ্ত কাজ আগামী ৭ মার্চের আগে শেষ করার জন্য কাজ শুরু করা হবে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, যেসব জেলাগুলো মেয়াদোত্তীর্ন আছে সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। আমাদের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজ বন্টন করে দিয়েছেন। মুজিববর্ষ শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ ১৭ মার্চের আগে এবং আমাদের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আছে। এর আগে যতটা সম্ভব অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নেত্রীর নির্দেশনা পেয়েছি। নির্দেশনা মোতাবেক সম্পাদকমন্ডলীকে অবহিত করেছি। যতদ্রুত সম্ভব তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।

সারাদেশে শীতার্ত মানুষের কাছে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ৪৫ লাখ শীতবস্ত্র এবং ৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে এই কার্যক্রম চলছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, দলের নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি টুঙ্গীপাড়া যাবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সেখানে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুস্পস্তাবক অর্পণ এবং যৌথসভা করবে দলটি।

‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালন করে এদেশের মানুষের মন জয় করা যাবে না’ - বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জন্ম দিবসে ভুয়া জন্মদিনে মির্জা ফখরুল সাহেব কেক কাটলেই কি মন জয় করা যাবে?

এদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মোকাবেলা করতে নির্বাচনি প্রচারণায় আ.লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের প্রয়োজন নেই, বরং দলটি যে দু’জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন তারাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।

এর আগে, শনিবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খুব দুঃখ করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল যদি নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন, আমি পারব না কেন?’ ১শ বার পারবেন। মন্ত্রী-এমপি থাকলে আপনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সুতরাং মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আসুন, আপনি নৌকার জন্য প্রচার করেন, আমি ধানের শীষের জন্য করি। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করি। দেখা যাক জনগণ কার দিকে থাকে।

মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি একবারের জন্যও কি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার মতো কোনো কাজ করেছি? সমাবেশে অংশ নিয়েছি? তাহলে মির্জা ফখরুল সাহেব কেন এই অবান্তর প্রশ্নটা করতে গেলেন। আমি তাকে বলবো, আপনার চ্যালেঞ্জ করা লাগবে না। যদি চ্যালেঞ্জ বলেন তাহলে বলবো, আমাদের মন্ত্রী-এমপিদের প্রয়োজন হবে না। আমাদের দু’জন ক্লিন ইমেজের মেয়র প্রার্থী যথেষ্ট আপনাদের বিএনপির নেতাদের ক্যাম্পইনের মোকাবেলা করার জন্য। 

যারা এমপি-মন্ত্রী আছেন তাদের দ্বারা যাতে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘন না হয় এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এ সময় নেতাকর্মীদের আচরন বিধি লঙ্ঘন না করে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন যে কথা বলেছে সে বিষয়ে আমাদের দ্বিমত পোষণ করি না। এখানে আমাদের আরও রাজনৈতিক কার্যাবলী আছে, সিটিতে আরও কাজ আছে সেটা তারা করবেন।

তারা ক্যাম্পেইনে অংশ নেবে না। নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘন হবে তেমন কোনো কাজে তারা অংশ নেবে না। অহেতুক কোনো বিতর্ক আমরা সৃষ্টি করতে চাই না।

ঢাকা উত্তর সিটি করেপারেশনে বিএনপির মিছিল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বলে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কোনো অভিযোগ করেছে বলে জানা নেই। যদি করে থাকেন আর নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে আচরণ বিধি কেউ লঙ্ঘন করেছে, তারা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।’  

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, অর্থ সম্পাদক  বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খানম, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু,  কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্ল বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ দপ্তর সায়েম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ