ছবি : প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছে চাকসু প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর আইন অনুষদ ভবন থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে চাকসু প্রতিনিধিরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করেন।
জানা যায়, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় আইন অনুষদে দায়িত্বে ছিলেন হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসু প্রতিনিধিরা আইন অনুষদে তাকে ধরতে যান। চাকসুর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। চাকসুর আইন সম্পাদক ফাজলে রাব্বি তাওহীদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান ও নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান তাকে আটক করেন।
হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিবির ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করা, শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিএফসির পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং নিজ বাসায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মদের আসর বসানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ছাড়া তিনি প্রায় দেড় বছর আত্মগোপনে ছিলেন। নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বেতন বন্ধ করেছে।
চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে এমন একটি মামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পালাতে গিয়ে পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।
আটকের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, আমি কোনো মৌন মিছিলে বের হইনি। যদি কেউ তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন সাবেক বিচারক এবং আইনের শিক্ষক। আমি জুলাই আন্দোলনে কোথাও বের হয়েছি কিনা প্রমাণসহ আমাকে আপনারা বলুন। আমি কোথাও বের হইনি। আমি মৌন মিছিলও করিনি, কিছুই করিনি।
শিক্ষার্থী বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের কীভাবে বহিষ্কার করব? আমি কি বোর্ড অব রেসিডেন্সের সদস্য ছিলাম? সদস্য তো পদাধিকার বলে হয়। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :