ছবি : প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে বেসরকারি ফলাফলে তাদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. কেরামত আলী। পোস্টালসহ তিনি মোট পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫১৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান মিয়াকে ৪৪ হাজার ৩৮১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন ড. কেরামত আলী।
নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ড. মিজানুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ২২৭। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির সহ সম্পাদক আমিনুল ইসলামকে ১৬ হাজার ১০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১৯ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। পোস্টালসহ ১৭৩টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট। বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদকে তিনি ৬২ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ জানান, দিনব্যাপী সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের উপস্থিতিও ভালো ছিল। জেলার তিনটি আসন মিলে মোট ভোটার ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৭ লাখ ৮ হাজার ৮৭০ জন ও পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ২০ হাজার ৭৮৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার পর শুরু হয় গণনা।
প্রসঙ্গত, শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় এবার ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ ও নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।
আবার নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় ৬৩ এবং স্বতন্ত্র ছিলেন ২০ জন। বিপরীতে এবার মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ছিল ১ হাজার ২৩২ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :