স্বামীর নির্যাতনে এক সন্তানের জননীর মৃত্যু

  • বানারীপাড়া প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
স্বামীর নির্যাতনে এক সন্তানের জননীর মৃত্যু

বরিশালের বানারীপাড়ায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারিয়া আক্তার (১৮) নামের এক সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার রবিউল মৃধার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

জীবিকার তাগিদে তারা রাজধানী ঢাকার নন্দীপাড়ার ছোট বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখানে রবিউল লেগুনা গাড়ি চালাতেন।

নিহতের বাবা কবির হাওলাদার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে এবং বিয়ের সময় প্রতিশ্রুত স্বর্ণের কানের দুল দিতে না পারায় মারিয়ার ওপর নির্যাতন চালাতেন তার স্বামী। এছাড়া মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এ নির্যাতনে স্বামীর মা ও বোনও তাকে প্ররোচনা দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রমজান মাসে রবিউল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে চাপ দেন। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মারিয়া এ টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) মারিয়াকে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে, এমনকি সংবেদনশীল অঙ্গেও আঘাত করা হয় বলে জানা গেছে। নির্যাতনের পর তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি; বরং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাসায় ফেলে রাখা হয়।
পরবর্তীতে অসুস্থতার কারণে রান্না করতে না পারায় তাকে আবারও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে মারিয়ার মা হাফিজা বেগম ঢাকায় গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বানারীপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং হত্যার মামলা প্রক্রিয়াধীন। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এ নির্মম ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এম

Link copied!