ছবি: প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে সদর থানা পুলিশ। চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার পর থেকেই মামলার বাদী ব্যবসায়ী দিলশাধ আলিফকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিলশাধ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন দিলশাধ আলিফ। অভিযোগ রয়েছে, সুলতান মাহামুদ বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকার নবাব সলিমুল্লাহ রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ী দিলশাধের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সুলতান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় এবং বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নগদ ২০ হাজার টাকা, চারটি কটি ও দুই হাজার টাকার বাজারসামগ্রী দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খ-সার্কেল থেকে সুলতান মাহামুদকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা অমান্য করেন। বরং বাদীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার পেয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক আল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকার বাসিন্দা সুলতান মাহামুদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া হয়।
চার্জশিট দাখিলের পর থেকে মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সম্প্রতি আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :