ছবি: প্রতিনিধি
বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতি আক্তারের মৃত্যুতে সহপাঠীরা বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজ সড়কের শের-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার বেশি সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার স্কুল ছুটির পর চৈতি আক্তার বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।
চৈতির মা বলেন, স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় কার্যকর চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরও চৈতি কথা বলছিল। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। তারা জানান, বিদ্যালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকার না থাকাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কাছে কয়েক মাস আগে আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, স্কুল এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল এবং প্রশাসনিক অবহেলার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি জানান তারা।
চৈতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে ক্লাসে ফিরে যায়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, জড়িত অটোরিকশা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :