ছবি : প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম: টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদের পানি ২৯ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল ও লোকালয়সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, স্বল্পমেয়াদি বন্যায় পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ভাঙন রোধে আমরা প্রস্তুত।
অঝোরে বৃষ্টিপাত ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও লোকালয়সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, লুছনি, ফান্দেরচর এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া, চরবলদিয়া এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে ডুবে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে মানুষের। গোচারণ ভূমিতে পানি ওঠায় গো-খাদ্য সংকটসহ মৎস্য খামারিরাও রয়েছেন চরম শঙ্কায়। পেঁয়াজ, রসুনের অবস্থাও শোচনীয়। পানিতে ভাসছে কুমড়া আর তলিয়ে আছে কাউন ও বাদামের আবাদ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী তিনদিন কুড়িগ্রামের সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদনদীর পানি সতর্কসীমায় বা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল। উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্ট হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে রংপুর এবং এর উজানে ভারতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান প্রধান নদ-নদীর উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আজ তিস্তা, ধরলা নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে ব্রহ্মপুত্রের পানি।
নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ, কেদার, কচাকাটা, বল্লভেরখাস ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত সাইদুর রহমান, মতিন, আলেয়া বেগম, জাহিদা বেগমসহ অনেকে বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ছে এবং দুধকুমার নদীতে পানি বাড়ায় অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, লুছনি, ফান্দেরচর এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, আদম আলী, শহিদুল ইসলাম, মজাহার আলী জানান, দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। অপরদিকে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রের পানিও ধীরগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিপৎসীমার ২৯ দশমিক ৬০ মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধরসহ জেলার সব কয়টি নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। ভাঙন ঠেকানো এবং বন্যা মোকাবিলায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :