অ্যাপ বানিয়ে স্বপ্ন বুনছে শরীয়তপুরের দুই মেধাবী ভাই

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
অ্যাপ বানিয়ে স্বপ্ন বুনছে শরীয়তপুরের দুই মেধাবী ভাই

ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: প্রযুক্তির এই যুগে অনেক শিশুর হাতে থাকে আধুনিক কম্পিউটার, ট্যাব কিংবা স্মার্ট গ্যাজেট। কিন্তু শরীয়তপুরের তিন মেধাবী ভাই-বোনের প্রযুক্তি শেখার একমাত্র ভরসা তাদের মায়ের একটি স্মার্টফোন। সেই ফোনেই ইউটিউব দেখে নিজেরাই শিখেছে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। ইতোমধ্যে তারা তৈরি করেছে ই-কমার্স অ্যাপ, মেসেজিং অ্যাপ এবং বিভিন্ন ছোট ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্র। আর্থিক সংকট তাদের পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও থামাতে পারেনি স্বপ্নকে।

জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাশাভোগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির তিন সন্তান হাবিবা ইসলাম (১২), তাফসির ও তানভীর (১১)। তাফসির ও তানভীর যমজ। বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত এবং মা গৃহিণীর পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে সংসারে সহযোগিতা করেন। সীমিত আয়ের এই পরিবারে অভাব-অনটন থাকলেও সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি ধানুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিন ভাই-বোনই প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করে আঙ্গারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তির প্রতি তাফসির ও তানভীরের আগ্রহ তাদের আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

পরিবারের কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য না থাকায় মায়ের স্মার্টফোনে ইউটিউব দেখে নিজেরাই অ্যাপ তৈরি শেখে দুই ভাই। ইতোমধ্যে তারা তিনটি ই-কমার্স অ্যাপ এবং হোয়াটসঅ্যাপের আদলে একটি মেসেজিং অ্যাপ তৈরি করেছে। এছাড়া ফেলে দেয়া উপকরণ ব্যবহার করে ব্লেন্ডার, পানির মোটরসহ বিভিন্ন ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্রও বানিয়েছে।

তাফসির জানায়, তারা এমন ই-কমার্স অ্যাপ তৈরি করেছে যেখানে ক্রেতারা পণ্য কিনতে এবং বিক্রেতারা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। পাশাপাশি তারা একটি মেসেজিং অ্যাপও তৈরি করেছে, যা পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের ফোনে ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে যোগাযোগ করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে চায় তারা।

তানভীর জানায়, অ্যাপ তৈরির পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রও তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে মানুষের কথা বুঝতে সক্ষম একটি গৃহসহায়ক রোবট এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ রোবট তৈরির স্বপ্ন রয়েছে তাদের। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না, আর পাওয়া গেলেও উচ্চমূল্যের কারণে কেনা সম্ভব হয় না। তাই সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবে বলে আশা তার।

বড় বোন হাবিবা ইসলামও পড়াশোনায় সমান মেধাবী। লেখাপড়ার পাশাপাশি আঁকাআঁকি ও সেলাইয়ে দক্ষ হাবিবা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চায়।

সন্তানদের মেধা নিয়ে গর্বিত বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে সন্তানদের জন্য একটি কম্পিউটারও কিনে দিতে পারছেন না। তার বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে সন্তানরা দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারবে।

মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তিন সন্তানই এবার একসঙ্গে বৃত্তি পেয়েছে। তারা ছোট বয়সেই কোডিং ও ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চায়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে না পারলেও সন্তানদের ইচ্ছাশক্তি ও মেধার ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

ধানুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শিবুনাথ গোস্বামী বলেন, হাবিবা, তাফসির ও তানভীর অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সবসময় উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

মা জান্নাতুল মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে এই তিন শিশু ভবিষ্যতে দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

পিএস

Link copied!