ছবি : প্রতিনিধি
পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এস.এম. দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার ও অফিস সহায়ক পদে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রসাটির সুপার মাওলানা মো. আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। গত (২৮ জুলাই) স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল মিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত, অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অতীতেও মাদ্রাসাটির বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম, তথ্য গোপন, জাল সনদ ব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে অফিস সহকারী- কাম কম্পিউটার পদে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অফিস সহয়াক পদেও অপর এক পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার অশুভ পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আবেদন গ্রহণের সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং সরকারি ছুটির কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, অতীতে মাদ্রাসার একাধিক নিয়োগে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন, জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার, এমপিও সংক্রান্ত অনিয়ম এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল ওই সুপারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আ. মান্নান অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা বলে জানান।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমাকে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। পরর্বীতে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিএস