ছবি : প্রতিনিধি
ঈশ্বরদী: স্ত্রীর আবদার মেটাতে কষ্টের উপার্জনে কেনা নিজের পিকআপে বসিয়ে মধ্যরাতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হলো গভীর বিষাদে। ‘গরুচোর’ সন্দেহ দম্পতিকে স্থানীয়দের গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ এবং পরে জামিনে মুক্তির পর বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এক দম্পতির সংসার।
পাবনার ঈশ্বরদী শহরের শহীদ আমিনপাড়া এলাকার মোটরযানচালক রায়হান শেখ ও সুমাইয়া খাতুন দম্পতির জীবনে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এখন এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রায়হান শেখের ভাষ্যমতে, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের পিকআপ গাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে ঘোরার সময় পৌর এলাকার উমিরপুর এলাকায় গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। রায়হান রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় ফজল মালিথাসহ কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে এবং টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় ফজল মালিথা তাদের ‘গরুচোর’ আখ্যা দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেয় এবং জনতা জড়ো হয়ে গণপিটুনি দেয়।
ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গত মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা আমলি আদালত-২-এর বিচারক তরিকুল ইসলাম শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের জেনারেল রেজিস্টার অফিসার (জিআরও) আনোয়ারা বেগম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরার পর ঘটে আরেক নাটকীয় ঘটনা। ‘গরুচোর’ সন্দেহে আটক ও গণপিটুনির খবর ছড়িয়ে পড়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয় সুমাইয়ার পরিবার। মঙ্গলবার রাতেই সুমাইয়ার বাবার বাড়ির লোকজন এসে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে যায়।
গতকাল বুধবার রায়হান শেখ অভিযোগ করে বলেন, ফজল মালিথার সঙ্গে আমাদের আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমাকে সমাজে হেয় করা এবং অপমানিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর এই চক্রান্তের কারণেই আজ আমার সংসার ভেঙে গেছে।’ তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে ফজল মালিথার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) আফজাল হোসেন জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসায় রায়হানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা গরুচোর নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও মধ্যরাতে ওই এলাকায় অবস্থানের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছিল।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনাটি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আটক দম্পতির পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিএস