হলের সহপাঠীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠাতেন ইবি ছাত্রী

  • জেলা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
হলের সহপাঠীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠাতেন ইবি ছাত্রী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া তার প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তুবাউল জান্নাত ঐশী। অভিযোগকারী ও রুমমেটদের দাবি, হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই ‘আবিদ’ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি (ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ড) ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠান। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

একাধিক সূত্রের দাবি, ‘আবিদ’ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সময় তার কাছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি সেগুলোর কিছু অংশ হলের অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশীকে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে জানতে হাউজ টিউটরসহ হলে মিটিংরত অবস্থায় আছি। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘আমি রাত ৩টার সময় বিষয়টা জেনেছি। ঐসময়ই আমি প্রোভোস্টকে ফোন দেই। প্রোভোস্ট ফোন রিসিভ করেনি, পরে হাউস টিউটরের সাথে কথা হয়। রাতেই আমি ভিসি স্যারকে টেক্সট করি। ভিসি স্যার ভার সাড়ে ৬টার সময় আমাকে ফোন দেন এবং বিস্তারিত শোনেন। পরে প্রোভোস্টের সাথেও কথা বলছেন তিনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে একটা তদন্ত কমিটিও গঠন হতে পারে।’

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এম

Link copied!