ছবি : প্রতিনিধি
পিরোজপুর: সরকারি নিয়ম ও নীতির তোয়াক্কা না করে দিনে ও রাতে স্কুলেই প্রাইভেট চালিয়ে যাচ্ছেন এক সহকারী শিক্ষক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি ঘণ্টার বাইরে কিংবা রাতে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কোচিং চালানো যাবে না। অথচ এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘীরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজুল ফকির নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেই প্রাইভেট চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি ভবনের দোতলায় রাতে ওই শিক্ষক তার নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন। সেখানে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখা গেছে। সাংবাদিকদের ওই শিক্ষক জানান, তিনি ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে দিতেই এখানে শিক্ষার্থীদের পড়ান এবং এর বিনিময়ে কোনো টাকা নেন না। তবে রাতে তার এই পড়ানো নিয়মের বাহিরে বলে স্বীকার করেন।
৮ম শ্রেণীর আফসানা মিম ও ১০ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানান, তারা সন্ধ্যা ৬টার সময় স্কুলে প্রাইভেট পড়তে আসেন এবং রাত ৯টার সময় বাড়িতে যান।
৬ষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোনায়েদ ভূইয়া ও ফাহিমুল ইসলাম জানান, তারা সকালে ও রাতে দুই বেলা আজিজুল স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়েন। মাসে ১ হাজার টাকা দেন। এবং তিনি সকল বিষয় প্রাইভেট পড়িয়ে দেন।
দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজিজুল ফকির বলেন, অভিবাবকরা আমার কাছে রাতে পড়তে পাঠায়। প্রধান শিক্ষক ও কমিটি যানে আমি রাতে পড়াই।
দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আজিজুল স্যারের পড়ানোর বিষয়টি তিনি জানেন, দাপ্তরিক কোনো অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নি। তবে এমন প্রাইভেট অনেক স্কুল শিক্ষক পড়ান।
নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিরোজপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইদ্রিস আলী আজীযী জানান, স্কুল শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবেন না এবং জেলা প্রশাসক স্যারের কঠোর নির্দেশ আছে রাতে কোনো কোচিং বা প্রাইভেট চলবে না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের বাইরে রাতের বেলায় নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এভাবে প্রাইভেট পড়ানোর ঘটনায় সচেতন মহলে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পিএস