আশুলিয়ায় নিরাপত্তা প্রহরীকে বেঁধে ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি-চার্জার ডাকাতি 

  • সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
আশুলিয়ায় নিরাপত্তা প্রহরীকে বেঁধে ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি-চার্জার ডাকাতি 

ছবি : প্রতিনিধি

সাভার: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে ঢুকে নিরাপত্তা প্রহরীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ৭৫টি ব্যাটারি, ২০টি চার্জার ও একটি মোবাইল ফোন ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিক মো. মোস্তফা মোল্লা ও তার প্রতিবন্ধী ভাই মোবারক মোল্লা। এর আগে গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থান রোড সংলগ্ন ‘মোস্তফা অটোরিকশা’ নামের একটি গ্যারেজে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

গ্যারেজ মালিক মো. মোস্তফা মোল্লা জানান, তিনি গত প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস ধরে ইয়ারপুর কবরস্থান রোড সংলগ্ন নিজস্ব জায়গায় অটোরিকশার গ্যারেজ ও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত প্রায় তিন মাস ধরে মো. রিফাত হোসেন নামে এক যুবক রাতে ওই গ্যারেজে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গ্যারেজের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন নিরাপত্তা প্রহরী রিফাত হোসেন। পরে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ৭ থেকে ৮ জনের একটি ডাকাত দল গ্যারেজের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ঘুমন্ত রিফাত হোসেনকে চাপাতি ও চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে দড়ি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে কাপড় দিয়ে তার মুখও বেঁধে দেয় ডাকাতরা। এরপর গ্যারেজে থাকা অটোরিকশার ৭৫টি ব্যাটারি নিয়ে যায় তারা, যার আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ২০টি চার্জার এবং নিরাপত্তা প্রহরী রিফাতের ব্যবহৃত প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি রেডমি স্মার্টফোনও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা বলে দাবি গ্যারেজ মালিকের।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৪টার দিকে রিফাত হোসেন নিজেই হাত-পায়ের বাঁধন ও মুখের কাপড় খুলতে সক্ষম হন। পরে তিনি পাশের বাড়িতে গিয়ে গ্যারেজ মালিক মোস্তফা মোল্লা ও মোবারক মোল্লাকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে গ্যারেজ মালিক ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যারেজে থাকা ব্যাটারি ও চার্জারগুলো না থাকার বিষয়টি দেখতে পান। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও গ্যারেজটি পরিদর্শন করে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গ্যারেজ মালিক মো. মোস্তফা মোল্লা।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও গ্যারেজটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে এ ঘটনায় দস্যুতার মামলা রুজু করা হবে।

পিএস

Link copied!