ফাইল ছবি
দেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই এই প্রকল্প ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠছে। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) প্রস্তাব এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত ভাড়াও অনেক বেশি।
চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই কোম্পানিটির রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগোনোর পর এই মালিকানা যাচাইয়ের উদ্যোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সিএনইই নিজেদের শতভাগ চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে। তাদের সেই দাবির সপক্ষে দূতাবাসের স্বীকৃতিপত্র পাওয়া গেলেও তা এবার কূটনৈতিক চ্যানেলে চূড়ান্ত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতিমধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পেট্রোবাংলার মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে ১৫ বছর মেয়াদে একটি এফএসআরইউ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিনের ভাড়া ধরা হয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে ১৫ বছরে পেট্রোবাংলার দায় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।
এই অতিরিক্ত ভাড়াই এখন বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে চালু থাকা সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউর তুলনায় সিএনইইর হাঁকানো ভাড়া প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেওয়া হলেও মূল্যায়ন কমিটি নিজেই এই ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে আরও পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে।
বিতর্ক কেবল ভাড়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। একই প্রকল্পে আগে জমা পড়া এনএস এনার্জি নেভিগেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও বাণিজ্যিক নথির সঙ্গে সিএনইইর প্রস্তাবের অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। এমনকি সিএনইইর নথিতে থাকা মানচিত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানটির নামও রয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আগে প্রস্তাব দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একজন সাবেক সংসদ সদস্যের আত্মীয় যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে সিএনইইর চেয়ে কম ভাড়ায় কাজ করতে চায়না মার্চেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ও লিয়ান ডকইয়ার্ডের যৌথ একটি প্রস্তাবও ছিল। সেটি বিবেচনায় না নিয়ে কেন উচ্চ ভাড়ার প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া এত বড় ব্যয়ের চুক্তি করার আগে প্রতিটি হিসাব আরও সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
এসএইচ