ছবি: প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালু উত্তোলন ও মহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। তবে শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীকুণ্ডার চরে পরিচালিত এই অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং বালু উত্তোলনের কোনো দৃশ্যও চোখে পড়েনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মার চরে বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষকেরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে কৃষিকাজ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংশয়ে আছেন। এই ঘটনার পর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেবে এবং ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এমন থমথমে পরিস্থিতিতে শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা-পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ দল পদ্মার চরে অভিযান চালায়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, বালু উত্তোলন কেন্দ্র করে এলাকায় মানববন্ধন ও নানা আলোচনা-সমালোচনার জেরে এই অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের কোনো কার্যক্রমও দেখতে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে চরাঞ্চলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত ঘটতে পারে। তাই তাঁরা দ্রুত গোলাগুলির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং নদীপাড়ের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এসএইচ