ঈশ্বরদীতে এইচএসসির ফলে ধস, পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ঈশ্বরদীতে এইচএসসির ফলে ধস, পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে

ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ কলেজে বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার আটটি কলেজের মধ্যে সাতটিতেই পাসের হার ত্রিশ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। সেই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কলেজগুলোর এমন নিম্নমুখী ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবহেলা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষকদের একাংশের প্রাইভেট ব্যবসাকে এই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর আটটি কলেজের কোনোটিতেই আশানুরূপ ফল হয়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯৯২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছে ৬০৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৮৮ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন।

ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ৪২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬০ জন ও ফেল করেছে ২৬২ জন। পাসের হার ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৮৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৩৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৯ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এই কলেজ থেকে মানবিক বিভাগের মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাকশী কলেজের ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ জন এবং ৩৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ২৫ শতাংশ। মুলাডুলি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ১৩৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ২২ জন এবং ফেল করেছে ১১১ জন। পাসের হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজের ১৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৭ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩২৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৭০ জন এবং ফেল করেছে ২৫৫ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৩৮ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাকশী, মুলাডুলি, বাঁশেরবাদা, দাশুড়িয়া ও সলিমপুর—এই পাঁচ কলেজের কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। এ ছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও সাধারণ কলেজগুলোর মতো হতাশাজনক বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ২ জুলাই থেকে ঈশ্বরদীর পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কলেজশিক্ষক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজে না আসা। কলেজে এসেও অনেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী হয় না। কেউ কেউ আড্ডা ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সময় কাটায়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা না গেলে ভালো ফল অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করেন তাঁরা।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষমুখী করতে শিক্ষকদের একাংশের যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। তাঁদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে প্রাইভেট পড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কলেজের আশপাশে কোচিংয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলে ব্যক্তিগত বাণিজ্যে সময় দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষবিমুখতা বাড়ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এসএইচ 

Link copied!