সাভার-আশুলিয়ায় সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত ৫০

  • সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
সাভার-আশুলিয়ায় সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত ৫০

ছবি : প্রতিনিধি

সাভার: শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় ও উলাইল এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমসহ পুলিশ, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারী মিলিয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় হেমায়েতপুর, উলাইলসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং সকাল ৯টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমসহ পুলিশ সদস্য, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারীরা আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সকাল ৯টার পর শ্রমিকরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পদ্মার মোড়, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন। পরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানবাহন আটকে পড়ায় কর্মস্থলগামী মানুষসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

অন্যদিকে, সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে একই দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। সংঘর্ষের পর পদ্মার মোড় ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানান, শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পদ্মার মোড় বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যান। অন্যদিকে, বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবস্থান ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন মঙ্গলবার বিকেলেও একই দাবিতে পোশাকশ্রমিকরা হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। তবে বুধবার সকালে নতুন করে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

পিএস

Link copied!