ফাইল ছবি
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন গ্রেডের সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। আগের মতোই নবম পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করবে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পে-কমিশনের এক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পূর্বনির্ধারিত সভায় বৃহস্পতিবার বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়নি। এ কারণে বেতন কাঠামোর অন্যান্য বিষয়ও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। সভায় পেনশন, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা নিয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে দুপুর ১২টায় নবম পে-স্কেলের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনের বৈঠক বসে। কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পূর্ণ ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারিত হলে সর্বোচ্চ বেতনসহ বাকি বিষয়গুলোও চূড়ান্ত করা যাবে বলে মনে করছে কমিশন। প্রয়োজনে কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।
এর আগে নবম পে-স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ ধরে সুপারিশ করা হবে বলে জানানো হয়। উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। কমিশনের দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি সাবকমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তিনটি নির্দিষ্ট কার্যপরিধির আওতায় মোট ৩৩টি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে, যেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত যুক্তি ও ব্যাখ্যাও সংযুক্ত ছিল।
অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান সরকারের অভিযোগ, সাবকমিটির প্রতিবেদনটি পৃথক এজেন্ডা হিসেবে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনার অনুরোধ জানালেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :