ব্যাংক শাখার আয়তন ও খরচের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
ব্যাংক শাখার আয়তন ও খরচের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

ফাইল ছবি

ঢাকা: ব্যাংকগুলোর শাখা, উপশাখা, বুথ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কেন্দ্র স্থাপনে নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, শহর এলাকায় কোনো ব্যাংক শাখার আয়তন সর্বোচ্চ ৬ হাজার বর্গফুট এবং গ্রামীণ এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার বর্গফুট হতে পারবে।

একই সঙ্গে ভবন ভাড়া, অগ্রিম পরিশোধ, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ‘ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর, ভাড়া/ইজারা গ্রহণ ও চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত নীতিমালা’ জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং শহর-গ্রামে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, উপশাখার আয়তন সর্বোচ্চ ১ হাজার বর্গফুট, কালেকশন বুথ ৩৫০ বর্গফুট এবং এটিএম বুথ ১০০ বর্গফুটের মধ্যে রাখতে হবে।

ভাড়া চুক্তিতে নতুন শর্ত: নতুন নির্দেশনায় ভবন ভাড়ার ক্ষেত্রেও একাধিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ কমপক্ষে ছয় বছর হতে হবে। প্রথম তিন বছরে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। পরে ভাড়া বাড়ানো হলেও তা প্রাথমিক ভাড়ার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এছাড়া সার্ভিস চার্জ মূল ভাড়ার ১০ শতাংশের বেশি নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কোনো এলাকায় প্রচলিত ভাড়ার তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ভাড়ায় ভবন নেওয়া যাবে না।

অগ্রিম ও নিরাপত্তা জামানতের সীমা নির্ধারণ: নীতিমালায় অগ্রিম অর্থ পরিশোধেরও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম চুক্তির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ৩০ মাসের ভাড়ার সমান হতে পারবে। আর চুক্তি শেষে ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ রাখা যাবে।

কোনো পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন ভবন ভাড়া নিলে তা আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। একই এলাকার অন্যান্য ভবনের তুলনায় ওই ভবনের ভাড়া বেশি হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

কোথায় অনুমতি লাগবে, কোথায় নয়: নতুন শাখা, উপশাখা, কালেকশন বুথ ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বুথ চালুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া শাখা একীভূতকরণ, রূপান্তর, বন্ধ করা কিংবা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।

তবে এটিএম, সিআরএম ও সিডিএম বুথ, এক মাসের কম সময়ের অস্থায়ী বুথ এবং বিমানবন্দর লাউঞ্জ স্থাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি লাগবে না। এসব ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বা নির্বাহী কমিটির অনুমোদনই যথেষ্ট। তবে স্থাপনের এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি জানাতে হবে।

ইন্টেরিয়র ব্যয়ের সীমাও নির্ধারণ: নতুন ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় করা যাবে। আর স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যয় প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

শহর-গ্রামে সমান গুরুত্ব: শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে ৫০:৫০ অনুপাত অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ বছরে যতটি নতুন শাখা খোলা হবে, তার অন্তত অর্ধেকই গ্রামীণ এলাকায় হতে হবে। একই বছরে একই শহরে একটির বেশি নতুন শাখা খোলা যাবে না। এছাড়া গ্রামীণ এলাকার কোনো শাখা শহরে স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে না।

সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিংয়েও নতুন নিয়ম: সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ সেবা স্বাভাবিক ব্যাংকিং সময়ের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা চালানো যাবে। এই সময়ে শুধু নগদ অর্থ জমা নেওয়া যাবে, অন্য কোনো ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন করা যাবে না।

নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা: নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুল তথ্য দিয়ে অনুমোদন নেওয়া বা নিয়মবহির্ভূতভাবে শাখা স্থানান্তর করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা কেন্দ্রের অনুমোদন বাতিল করার ক্ষমতাও থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবার বিস্তার আরও বাড়বে।

এএইচ/পিএস

Link copied!