মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে: ডিএসইর এমডি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে: ডিএসইর এমডি

ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: তালিকাভুক্ত ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনের জন্য পৃথক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে ডিএসই। নুজহাত আনোয়ার বলেন, বর্তমান বিধিবিধানের আওতায় মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য একটি পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেন করতে পারবেন। নভেম্বরের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি চালু করার আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, বন্ড মার্কেট নিয়েও ডিএসই কাজ করছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ড লেনদেনের মূল্যসংক্রান্ত কাঠামোতে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ইস্যু হতে যাওয়া বন্ডগুলোকে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের লেনদেনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর পরিকল্পনা করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। পাশাপাশি ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এ দুটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর ক্ষেত্রেও কাজ এগিয়ে চলছে। তবে এ ধরনের পণ্য চালুর আগে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এসব কাজ সম্পন্ন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

ডিএসইর এমডি জানান, বাজারের শিল্পভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ও শ্রেণি-সংক্রান্ত কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে পর্ষদের অনুমোদনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে তা শেয়ার করা হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নতুন কোনো নিয়ম বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বাজারে যাতে কোনো ধরনের ছন্দপতন না ঘটে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সেটি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই নতুন নিয়ম ও পণ্য চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, কয়েকটি বন্ড মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যাতে বন্ডে বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্বিতীয় বাজারেও লেনদেন করতে পারেন, সে বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

ডিএসইর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন নাসডাক ট্রেড ম্যাচিং ইঞ্জিন স্থাপনের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগকালীন তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা বা ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেমও ডিসেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ডিএসইর এমডি বলেন, বাজারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে আরও কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে। এগুলোও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এএইচ/পিএস

Link copied!