দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও চালু হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন বাংলা, দ্বিতীয় দিন ইংরেজি, তৃতীয় দিন গণিত এবং শেষ দিন বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিদিন একই সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বৈসাবি উৎসবের কারণে নির্ধারিত সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৭ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এবার পঞ্চম শ্রেণির সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। যদিও মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. প্রবেশপত্র : প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের আগেই হলে উপস্থিত হতে হবে।
২. নিষিদ্ধ বস্তু : ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।
৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠা (ওএমআর) : উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না।
৪. শিক্ষকের স্বাক্ষর : উত্তরপত্রে অবশ্যই দায়িত্বরত শিক্ষকের (ইনভিজিলেটর) স্বাক্ষর থাকতে হবে, অন্যথায় খাতা বাতিল হবে।
৫. পরিচয় গোপন রাখা : উত্তরপত্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৬. খসড়া কাজ : আলাদা কোনো কাগজ দেওয়া হবে না। উত্তরপত্রেই খসড়া করে পরে তা কেটে দিতে হবে।
৭. অন্যত্র লেখা নিষিদ্ধ : টেবিল, স্কেল বা শরীরের কোথাও কোনো কিছু লেখা যাবে না।
৮. হল ত্যাগ : প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর অন্তত ১ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কেউ হলের বাইরে যেতে পারবে না।
৯. খাতা জমা : পরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে খাতা বুঝিয়ে দিয়ে তবেই হল ছাড়তে হবে।
১০. কর্তৃপক্ষের নিয়ম : এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে।
পরীক্ষা চলাকালে কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে কঠোর আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার হলে কথা বলা, উত্তরপত্র বিনিময়, নকল করা বা অন্যকে সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি উত্তরপত্রের কোনো পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধাতালিকায় ছাত্র-ছাত্রীদের সমান হারে (৫০ শতাংশ করে) নির্বাচন করা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) চালু হওয়ায় বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এ পরীক্ষার পুনরায় সূচনা হলো।
এম
আপনার মতামত লিখুন :