শিক্ষা ক্যাডারে ৩৮৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
শিক্ষা ক্যাডারে ৩৮৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ফাইল ছবি

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৩৮৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশের পাশাপাশি যোগদানের তারিখ এবং বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সময়সূচিও এতে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে মনোনীত ৩৮৩ জন প্রার্থীকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুসারে ৯ম গ্রেডে (৪৪,০০০-১০৫,৯০০ টাকা বেতনক্রমে) সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর পূর্বাহ্ণে প্রার্থীদের আবশ্যিকভাবে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বরাবর স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। তবে প্রার্থীরা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে না গিয়ে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) উপস্থিত হয়ে যোগদান সম্পন্ন করবেন। এরপর ১ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে অনুষ্ঠিত ৮ দিনব্যাপী বাধ্যতামূলক আবাসিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে অসম্মত বলে ধরে নেওয়া হবে এবং তাঁর নিয়োগপত্রটি সয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রার্থীকে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে পেশাগত প্রশিক্ষণ সাফল্যজনকভাবে শেষ করতে হবে। চাকরিতে প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে গণনা করা হবে, যা প্রয়োজনে আরও দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শিক্ষানবিশকালে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স না থাকলে কিংবা অনুপযোগী বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কমিশনকে না জানিয়ে চাকরি থেকে অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে প্রার্থীদের ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একজন জামানতদারসহ একটি অঙ্গীকারনামা বা বন্ড দাখিল করতে হবে। এতে উল্লেখ থাকবে, শিক্ষানবিশকালে কিংবা শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন গৃহীত সব বেতন-ভাতা ও সরকারের ব্যয়কৃত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। কোনো কর্মকর্তা সরকারের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ইস্তফা দিতে চাইলে 'দ্য পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট ১৯১৩' এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই নিয়োগ প্রাপ্তির মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে যোগ্য জনবলের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নতুন গতিশীলতা আসবে। ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২ এর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী নবনিযুক্ত এই ক্যাডার কর্মকর্তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে।

এসএইচ 

Link copied!