ছবি: সংগৃহীত
নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ছবি সংযোজন নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক নৌকার ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় তা আর সংশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন চিত্রায়ন ও ছবি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে মুদ্রণ কার্যক্রম সংশোধন ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে গত শনিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়, আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা না গেলেও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মুদ্রিত প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ছবির সঙ্গেই মূল পাঠের সরাসরি কোনো যৌক্তিক বা প্রাসঙ্গিক যোগসূত্র নেই। যেমন প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হয়’ বাক্যের সঙ্গে, ‘ভোর হলো’ কবিতা এবং ‘আমাদের দেশ’ সম্পর্কিত বর্ণনায় নৌকার ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়েও ‘আমাদের গ্রাম’, ‘আজিকার শিশু’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তালগাছ’ কবিতার মতো পাঠেও নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে। তবে এনসিটিবির দাবি, মূলত নদীমাতৃক বাংলাদেশের আবহ ও ভূপ্রকৃতি ফুটিয়ে তুলতেই চিত্রশিল্পীরা এসব ছবি এঁকেছেন।
এদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বা জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এ বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৮ লাখ কপির মধ্যে ইতিমধ্যে ১৮ লাখ কপি ছাপিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ২০ লাখ কপি বর্তমানে মুদ্রণাধীন রয়েছে। মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো থেকে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি প্রত্যাহার করে সেখানে সংশোধিত নতুন পাতা যুক্ত করার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার গণমাধ্যমকে জানান, বইয়ের বিষয়বস্তু ও গল্পের ভাবার্থের সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পীরা এসব ছবি এঁকেছেন। মূলত মূল কনটেন্ট বা পাঠ্যসূচি পরিবর্তন না হলে হুট করে ছাপার কাজ শেষ হওয়া বইয়ের ছবি পরিবর্তন করা অত্যন্ত দুরূহ।
তবে আগামী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জনের সময় এসব নান্দনিক ও প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এসএইচ