আইসিইউ খোঁজতেই ঝরছে শিশুর প্রাণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
আইসিইউ খোঁজতেই ঝরছে শিশুর প্রাণ

ছবি: প্রতীকী

মাত্র ৬ মাস বয়সে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে শিশু আফিয়া। মৃত্যুর ঠিক দুই দিন আগে তার জরুরি প্রয়োজন ছিল একটি শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (পিআইসিইউ) শয্যা। দুই দিনে ঢাকার চারটি সরকারি মেডিকেল কলেজসহ ছয়টি বড় হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরেও একটি খালি শয্যা মেলেনি। বেসরকারি আইসিইউর বিপুল খরচ জোগানোর সামর্থ্য ছিল না দরিদ্র মা-বাবার। শেষ পর্যন্ত গত ৯ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাণ হারায় শিশুটি। 

গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৭১ শতাংশ শিশুই শেষ মুহূর্তে কোনো আইসিইউ সেবা পায় না। মূলত রাজধানীজুড়ে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাজার হাজার হাসপাতাল থাকলেও শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত কঙ্কালসার। ১ মাস থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের চিকিৎসার উপযোগী পিআইসিইউ শয্যা ঢাকায় সরকারি পর্যায়ে আছে মাত্র ৪৩টি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীর মাত্র তিনটি অনুমোদিত হাসপাতালে এই সুবিধা চালু রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭টি, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ১৬টি এবং মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রয়েছে ১০টি শয্যা। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে অননুমোদিতভাবে ৫টি শয্যা চালু থাকলেও রয়েছে জনবল সংকট। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ তৈরির অন্যতম কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) একাধিকবার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো পিআইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্যের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, সারাদেশে ৩ হাজারের কাছাকাছি আইসিইউ শয্যা থাকলেও তার মাত্র ৩ শতাংশ পিআইসিইউ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিপুলসংখ্যক মুমূর্ষু শিশুর তুলনায় তাদের ১৭টি শয্যা অপ্রতুল, কিন্তু স্থান সংকটের কারণে চাইলেও শয্যা বাড়ানো যাচ্ছে না।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধে নজর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ ভবন নির্মাণের নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!