ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঘটনা নথিভুক্ত রয়েছে। সামরিক পরিভাষায় ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বলতে এমন ঘটনাকে বোঝায়, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র দুর্ঘটনার কারণে হারিয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব ঘটনার মধ্যে অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইবি দ্বীপের কাছে। সে সময় আকাশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হলে একটি বি–৪৭ স্ট্রাটোজেট বোমারু বিমান একটি সশস্ত্র মার্ক–১৫ পারমাণবিক বোমা বহন করছিল। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় পাইলট জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে বোমাটি উপকূলের কাছে ওয়াসাউ সাউন্ডে সমুদ্রে ফেলে দেন।
প্রায় ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের ওই মার্ক–১৫ হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৮ মেগাটন। তুলনামূলকভাবে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে ব্যবহৃত ‘ফ্যাট ম্যান’ পারমাণবিক বোমার চেয়েও বহু গুণ বেশি শক্তিশালী বলে উল্লেখ করা হয়।
দুর্ঘটনার পর বহুবার অনুসন্ধান অভিযান চালানো হলেও বোমাটি আর উদ্ধার করা যায়নি। প্রথমদিকে মার্কিন বিমানবাহিনী দাবি করেছিল, উড্ডয়নের আগে বোমার প্লুটোনিয়াম ওয়ারহেড সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তবে পরে প্রকাশিত কংগ্রেসনাল নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বোমাটি আসলে সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্র হিসেবেই বহন করা হচ্ছিল।
এ ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে ১৯৬৬ সালে, যখন দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ভূমধ্যসাগরে একটি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায়। এর ওয়ারহেডও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হারিয়ে যাওয়া এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কারণ হলো—যদি কখনো এগুলো ভুল হাতে পড়ে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, তারা যদি এসব অস্ত্র খুঁজে না পায়, তাহলে অন্য কোনো পক্ষের পক্ষেও সেগুলো সহজে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেফ্রি লুইস বলেছেন, সামরিক হামলায় কোনো দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। তিনি মনে করেন, প্রয়োজন হলে ইরান ভবিষ্যতে আবারও সেই সক্ষমতা পুনর্গঠন করার চেষ্টা করতে পারে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :