ফাইল ছবি
ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম শুক্রবার কিছুটা বাড়লেও টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক পতনের পথে রয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের বাড়তি ইয়িল্ডের কারণে সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৯৭ ডলার ২৪ সেন্টে দাঁড়ায়। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমার পথে রয়েছে। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১০২ ডলার ৯০ সেন্টে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী অন্য খাতে লোকসান সামাল দিতে দ্রুত নগদ অর্থ জোগাড়ের জন্য সোনা বিক্রি করছেন। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় সোনার বাজারে চাপ পড়েছে।
স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, শেয়ারবাজার দুর্বল থাকায় বিনিয়োগকারীরা অন্য খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সোনা বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে তেলের উচ্চ দাম ভবিষ্যৎ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে, যা সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাও বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতও বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও, যা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো পতনের পথে রয়েছে।
অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ান তেল কেনার লাইসেন্স দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জানুয়ারি মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচারস (পিসিই) তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন, যা দেশটির মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে ডলার সূচক তিন মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ডও প্রায় ছয় সপ্তাহের উচ্চতায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ায় সোনার বাজারে দুর্বলতা দেখা দিলেও দাম ৫ হাজার ডলারের ওপরে শক্ত সমর্থন পেতে পারে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৩ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২ হাজার ৭২ ডলার ৯০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬০০ ডলার ৩৪ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :