ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতের এই অভিযানে একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজনের সন্ধান এখনও মেলেনি।
সামরিক সূত্র অনুযায়ী, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য প্যারাস্যুটে অবতরণ করেন। এরপরই তাদের খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় একাধিক হেলিকপ্টার ও রিফুয়েলিং বিমান।
অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর গুলিতে দুটি হেলিকপ্টারই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে একটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত উভয় হেলিকপ্টারই নিরাপদে ইরাকে ফিরে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর দ্যা টেলিগ্রাফের।
এদিকে নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে ইরানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে স্থানীয় মিলিশিয়াদের অনুসন্ধান কার্যক্রম দেখানো হচ্ছে এবং তাকে জীবিত আটক করতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানটি হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই বিমানের পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিখোঁজ পাইলটের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা আশা করছি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে না।
এদিকে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
একই সময়ে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে চলা আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।
মনে করা হচ্ছে, ভূপাতিত যুদ্ধবিমান, নিখোঁজ পাইলট এবং ব্যর্থ শান্তি আলোচনা- সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র ও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :