ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: ক্ষমতায় এসেই পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজ্যটিতে প্রকাশে পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশের উল্লেখ করে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—প্রকাশ্যে বা যত্রতত্র নয়, পশু জবাই করতে হবে শুধুমাত্র সরকার স্বীকৃত কসাইখানায়।
বুধবার রাজ্য সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’-এর উল্লেখ করে নির্দিষ্ট পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অনুমতিপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোনও পশু (ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ, মোষের বাচ্চা এবং মুষ্ক-ছেদিত মোষ) জবাই দিতে পারবেন না, যদি না তিনি সেই পশুটি জবাই উপযুক্ত - এই মর্মে কোনও ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অনুমতি পত্র সংগ্রহ করেন।
কোনো পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে এই অনুমতিপত্র প্রদান করতে পারবেন। তবে তাঁদের লিখিতভাবে একমত হতে হবে যে, কাজ ও প্রজননের ক্ষেত্রে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি অথবা পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অন্য কোনো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে, তবেই সেটিকে হত্যা করা যাবে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে, কলকাতা হাই কোর্টের ২০১৮ সালের ৬ আগস্টের রায় এবং সে সংক্রান্ত ২০২২ সালের ৮ জুনের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করে সাফ জানানো হয়েছে, সার্টিফিকেট থাকলেও প্রকাশ্যে গরু বা মোষ জবাই দেওয়া যাবে না। অনুমোদনপ্রাপ্ত পশুটিকে শুধুমাত্র কোনো পৌর কসাইখানা অথবা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত কসাইখানায় জবাই দিতে হবে।
কেউ নিয়ম ভাঙলে আইন মোতাবেক তার কী শাস্তি হবে, সেটাও জানানো হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। যৌথ অনুমোদনপত্র ছাড়া পশু জবাই করলে বা নিষিদ্ধ স্থানে এই কাজ করলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। ১৯৫০ সালের আইনে সকল অপরাধই ‘গুরুতর’ হিসেবে গণ্য হবে।
তবে এই ধরনের অনুমোদনপত্র প্রদানে অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উক্ত অস্বীকৃতির সংবাদ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :