গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একাধিক শহর এবং পাঁচটি সেতুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও ইরানশহরসহ একাধিক স্থানে হামলায় আটজন নিহতসহ আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। সম্প্রচারমাধ্যমটির তথ্যমতে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের কাছে দুটি সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা এক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন।
আইআরআইবি কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তাসনিম আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর মধ্যে বন্দর খামিরের নিকটবর্তী বন্দর আব্বাস-শিরাজ সেতুও রয়েছে। হামলার পর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মেহের নিউজ এজেন্সি বন্দর আব্বাসে হামলার পর ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে মনে হচ্ছে, একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে, তবে বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া, মেহের নিউজ এজেন্সি দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের ইরানশহর বিমানবন্দরের কাছেও একটি বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের আশেপাশের এলাকাগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে।
পরে ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, মার্কিন হামলায় মোট পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গারিভেহ এবং কাহুরেস্তান সেতুও রয়েছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহ এবং সামরিক সরঞ্জাম চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, তারা কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর মোতায়েনকৃত সৈন্য এবং তাদের লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট সেন্টার বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে পালটা হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক আলাদা বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানায়, সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এই হামলায় একটি রাডার সিস্টেম ও বেশ কয়েকটি স্পেশাল অপারেশন হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং ‘বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে’ বলে তারা দাবি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরেকটি আক্রমণাত্মক হামলা সফলভাবে শেষ করেছে। এটি ছিল ইরানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক অভিযানের টানা ষষ্ঠ রাতের হামলা।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। এর জবাবে যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান।
দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে মাত্র গত মাসেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়, যার জেরে উভয় পক্ষই ফের একে অপরের ওপর হামলা শুরু করেছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :