ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন কমে আসতে পারে। আগামী সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বিস্তারিত জানাবেন তিনি।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধ একসঙ্গে প্রয়োগ করা হবে। তার দাবি, এই চাপ ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চীনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বেসেন্ট বলেন, এ ধরনের আলোচনা ব্যক্তিগত পর্যায়েই করা ভালো। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। তাই ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবস্থান নেওয়া চীনের জন্যই ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও জড়িত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের চাপ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারবে না।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন, রয়টার্স, আনাদোলু, দ্য গার্ডিয়ান
এসআই