সৌদি আরবকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করার ঘোষণা পাকিস্তানের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
সৌদি আরবকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করার ঘোষণা পাকিস্তানের

ফাইল ছবি

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষার মতোই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গত সোমবার জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। হুথিদের ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি। সে সময় পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।

পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির তেহরানে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে চার দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।

খাজা আসিফ বলেন, সৌদি আরবকে রক্ষা করা পাকিস্তানের দায়িত্ব। সৌদি আরবে পরিচালিত হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে সৌদি আরবকে রক্ষা করবে। রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একটি সমঝোতার কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তিনটি দেশ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে। চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো হুমকি দেখা দিলে দেশগুলো যৌথভাবে তা মোকাবিলা করবে। যেকোনো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা একে অপরের ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানের ওই তেহরান বৈঠক নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। বৈঠকটি হুতিদের হামলা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

খাজা আসিফ জানান, তার ধারণা এই উদ্যোগ মূলত সৌদি আরবকে ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। তেহরানে গুরুত্বপূর্ণ এসব দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এই কূটনৈতিক প্রয়াসের বড় গুরুত্ব নির্দেশ করে। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রচেষ্টাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা এবং পবিত্র দুই মসজিদের ওপর হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এসব কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন খাজা আসিফ। তিনি জানান, অঞ্চলের উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইরানসহ নিরাপত্তা কাঠামোর আওতাভুক্ত সব দেশ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আলোচনার ফলাফল নিয়ে কিছুটা সতর্ক থাকলেও খাজা আসিফ মনে করেন, পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

এসএইচ 

Link copied!