সংবিধান সংস্কার নয়, স্থগিত বা সংশোধন হয়: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৬:১০ এএম
সংবিধান সংস্কার নয়, স্থগিত বা সংশোধন হয়: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান ‘সংস্কার’ নয়, সংশোধনের মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একটি সংবিধানকে সংস্কার করা যায় না; বরং তা রহিত, স্থগিত কিংবা সংশোধনের মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা হয়।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। একইসঙ্গে তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন।

মন্ত্রী দাবি করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নানা ধরনের “আইনি অসঙ্গতি” যুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাকি বিতর্কিত বিষয়গুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পর্যালোচনা করে সংশোধন বা বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে সংবিধানের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে থাকা কিছু ঐতিহাসিক বিবরণ নিয়ে তিনি আপত্তি তোলেন এবং সেগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকা যথাযথভাবে সংবিধানে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মার্চের ঘোষণার বিষয়টি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তা পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবিধানের মূলনীতিতে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” পুনর্বহালের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই নীতিটি আগে সংবিধানে থাকলেও পরবর্তীতে তা বাদ দেওয়া হয়, যা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এছাড়া তিনি সংসদীয় কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিরোধী দলসহ সকল সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হোক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত দেশের সংসদেই নেওয়া হবে—বাইরের কোনো প্রভাব বা নির্দেশনায় নয়।

এম

Link copied!