পে-স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, ১ জুলাই থেকেই কার্যকর 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
পে-স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, ১ জুলাই থেকেই কার্যকর 

ফাইল ছবি

অবশেষে অবসান হতে যাচ্ছে লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা। আগামী ১ জুলাই থেকেই দেশে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো-পে-স্কেল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেট সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা দুই দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের সার্বিক রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের পুরো চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও সব দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পেতে যাচ্ছেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। এমনকি অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো কর্মপরিকল্পনা ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতেই সরকার অত্যন্ত কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর তথা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এই প্রথম ধাপের জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে অর্থ বিভাগ। এরপর দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে এবং সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, এককালীন বাস্তবায়ন না করে তিন বছরে ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকর করার ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে কোনো নেতিবাচক চাপ পড়বে না। একই সঙ্গে সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ ও নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

এর আগে, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা মেটাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার।

এসএইচ 
 

Link copied!