ব্যাংক পুনর্গঠন ও সংকটাপন্ন ব্যাংক সচল রাখতে ২০২৫ সালে প্রবর্তিত বাজারভিত্তিক বিশেষ ব্যবস্থার ধারা বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ব্যাংক রেজুলেশ আইন, ২০২৬’-এর ১৮ক ধারার শর্ত পূরণ করে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
একই বৈঠকে বিদেশিদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া সহজ করার লক্ষ্যে ভিসা পলিসি ২০২৬ এবং অধিকতর স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব কিংবা ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকির সময়োপযোগী সমাধান এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রথমে ‘ব্যাংক রেজুলেশ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। পরে অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।
বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের কিছু বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য পৃথক করা হয়।
একইসঙ্গে সরকারের আর্থিক দায়, গ্রাহকের স্বার্থ এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইনে নতুন ১৮ক ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। পরে বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ পাস হয়।
এই ১৮ক ধারার উদ্দেশ্য ছিল— প্রচলিত ব্যাংক রেজল্যুশন ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে রেজ্যুলেশনের আওতায় থাকা ব্যাংক সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূর করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
তবে আইনের ১৮ক ধারায় নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। এ কারণে ধারাটি বিলুপ্ত করতে ‘ব্যাংক রেজুলেশ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। মন্ত্রিসভা খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
এম