যে কারণে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে নতুন জটিলতা!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
যে কারণে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে নতুন জটিলতা!

ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের সরকারি চাকরিজীবীরা। নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আদেশ রবিবার প্রকাশের কথা থাকলেও গেজেট জারির আগে শেষ মুহূর্তের কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত দিনে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, পে স্কেলের গেজেটের খসড়া ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর খসড়াটি পরবর্তী ধাপে যাবে। প্রজ্ঞাপন জারির আগে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এসব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে নতুন সময়সীমা হিসেবে আগামী রবিবারের কথা জানানো হয় এবং অর্থসচিবও ৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারির কথা নিশ্চিত করেছেন। এখন নজর রয়েছে বিজি প্রেস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে।

এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গঠিত সচিব কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এ বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর অধীনে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নতুন এই বেতনকাঠামোয় গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ।

এসএইচ 

Link copied!