ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাংশজুড়ে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আচমকা ও দ্রুত অগ্রযাত্রা পুরো বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে লোহিত সাগর উপকূলের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা।
প্রতিপক্ষ হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’ যখন হতভম্ব ও মনোবলহীন, তখন ১২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের বিধ্বংসী বিমান হামলা এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ সামলেও হুথিরা যে এই অঞ্চলের অন্যতম মূল সামরিক শক্তি হিসেবে বহাল রয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।
এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর হুথিদের সরাসরি নজরদারি ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান তার মিত্রদের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব-বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি নৌপথের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি জ্বালানি ও তেল পরিবাহিত হওয়া এই রুটগুলোর ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
হুথি সামরিক বাহিনী অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য চলাচলের আশ্বাস দিলেও শিপিং কোম্পানিগুলোর সংশয় কাটছে না। অতীতে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট নয় এমন আন্তর্জাতিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছিল দলটি। এদিকে কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রপ্তানি রুটও এখন হুমকির মুখে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই সংঘাতে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সংঘাতের এই নতুন জোয়ার কেবল আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন বা জ্বালানি সরবরাহকেই সংকটে ফেলছে না, বরং সবচেয়ে বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকে। টানা ১২ বছরের গৃহযুদ্ধে ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত, ক্ষুধার্ত ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জীবন এই নতুন অস্থিরতায় আরও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
এসএইচ