ছবি : সংগৃহীত
মারধরের মামলায় মায়ের সাথে দুধের শিশু সিয়ামকে দুই দিন বিনা অপরাধে কারাগারে থাকতে হয়েছে। মা ফারজানা আক্তার শিল্পিকে দুইদিন কারাভোগের পর আদালত মানবিক বিবেচনায় জামিন দিলেও প্রশ্ন উঠেছে—বিনা অপরাধে দুধের শিশুর কারাভোগের দায় কার?
মা ফারজানা আক্তার শিল্পির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ছিল। কিন্তু মামলার মেডিকেল রিপোর্টে আঘাতের ধরন “সাধারণ” উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এর ফলে তার আড়াই বছরের শিশু সন্তান সিয়ামও বাধ্য হয়ে কারাগারে যায়। একটি শিশুর কোনো অপরাধ নেই, কোনো দায় নেই; তবুও তাকে কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের মানবিক ও বিচারিক সংবেদনশীলতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
এ সময় স্কুলড্রেস পরিহিত তার আরও দুই স্কুল পড়ুয়া শিশু সন্তান গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জেলগেটে। এক দিকে দুধের শিশুকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া এবং অন্য দুই অবুঝ শিশুকে জেলগেটে রেখে মায়ের কারাভোগে যাওয়া নি:সন্দেহে বেদনা দায়ক।
আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়াও সমান জরুরি। বিশেষ করে নারী ও শিশু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। কারণ বিচার প্রতিষ্ঠার নামে যদি কোনো নিরপরাধ শিশু কষ্ট পায়, তবে সেই বিচারব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবিগুলো—প্রিজনভ্যানে শিশুকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকা মা, আর কারাফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানের অপেক্ষা—দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, মানুষ শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ নয়, ন্যায়বিচারের সঙ্গে মানবিক আচরণও দেখতে চায়।
আদালত শেষ পর্যন্ত মানবিক বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন, যা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই দুই দিনের অযাচিত কারাভোগের দায় কে নেবে? ভবিষ্যতে যেন আর কোনো দুধের শিশুকে বিচারিক প্রক্রিয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার হতে না হয়, সে জন্য জামিন নীতি ও বিচারিক সিদ্ধান্তে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আরও কার্যকর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।
আপনার মতামত লিখুন :