ফাইল ছবি
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক দেশ চীনের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি এখনও সীমিত। তবে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার কার্যকর ব্যবহার, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়ন করা গেলে দেশটির বিশাল বাজারে বাংলাদেশের রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশগুলোর একটি হলেও একই সঙ্গে এটি একটি বিশাল আমদানি বাজার। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ২ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। অথচ এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র ০.০৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের আমদানি বাজারের মাত্র ১ শতাংশও যদি বাংলাদেশ দখল করতে পারে, তাহলে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র জানায়, চীন ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এই সুবিধা বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এখনও এ সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছেন না। পণ্যের মান, বাজারজাতকরণ, সরবরাহ সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এ সুযোগ আরও কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রফতানি এখনও মূলত তৈরি পোশাককেন্দ্রিক। চীনের বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যেরও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে রফতানি বাড়ানো গেলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ পণ্য চীন থেকে আমদানি করলেও রফতানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে এফটিএ বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ধরে রাখতে চীনের সঙ্গে একটি কার্যকর বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কমুক্ত সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার, এফটিএ বাস্তবায়ন, রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাণিজ্য দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এতে যেমন রফতানি আয় বাড়বে, তেমনি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চীনের ভোক্তা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এই বাজারে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে চীনের তৈরি পোশাক আমদানি বাজারে বাংলাদেশের অংশ প্রায় ৭ শতাংশ, যেখানে ভিয়েতনামের অংশ ১৯ শতাংশের বেশি। ফলে এ খাতে আরও মনোযোগ দিলে রফতানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
এসএইচ