ডিপফেক ইমেজ বিতর্কে গ্রোক, তদন্তে ইলন মাস্কের নাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ডিপফেক ইমেজ বিতর্কে গ্রোক, তদন্তে ইলন মাস্কের নাম

ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানিমূলক অশ্লীল ভুয়া ছবি বা নন-কনসেনসুয়াল ডিপফেক তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এআই চ্যাটবট গ্রোকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সংযুক্ত এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) অনুসারে তার আইনি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী, বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। কমিশন জানিয়েছে, তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ইইউ-তে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন, বিশেষ করে যৌনভাবে বিকৃত ও ম্যানিপুলেটেড ছবি এবং শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদানের ঝুঁকি প্রতিরোধে এক্স প্ল্যাটফর্ম যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে কি না।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এক বিবৃতিতে বলেন, নারী ও শিশুদের ডিজিটালভাবে অশ্লীল বা নগ্নকরণের মতো আচরণ ইউরোপ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সম্মতি ও শিশু সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না, যাতে তারা এসব লঙ্ঘন করে আর্থিক সুবিধা অর্জন করতে না পারে।

গ্রোক চ্যাটবটে সাধারণ প্রম্পট দিয়েই নারী ও শিশুদের যৌন ডিপফেক ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউ-এর প্রযুক্তিবিষয়ক কমিশনার হেনা ভিরকুনেন বলেন, গ্রোকের কারণে ইউরোপের নারী ও শিশুদের অধিকার যাতে কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। সম্মতিহীন যৌন ডিপফেক ছবি সহিংসতা ও মানব মর্যাদার লঙ্ঘনের গুরুতর রূপ, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রোক প্রায় ৩০ লাখ অশ্লীল ডিপফেক ছবি তৈরি করেছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশুদের নিয়ে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের স্বচ্ছতা বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে এক্স-কে ১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সূত্র: আল–জাজিরা

এসবিআর

Link copied!