অর্থনীতিকে মজবুত করতে সরকারকে সাহায্য করতে চাই: পরওয়ার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের বাজেট এবং দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে অন্তর্নিহিতভাবে আরেকটু মজবুত ও শক্তিশালী করার কাজে সাহায্য করতে চাই।”

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে অর্থনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জামায়াত ইতোমধ্যে ৭-৮টি প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করেছে। এসব আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো সংক্ষিপ্ত করে দলের পার্লামেন্টারি পার্টির মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, বিরোধী দল হিসেবে সংসদে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা কঠিন। তা সত্ত্বেও আমাদের এবং জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী আমরা কেমন বাজেট চিন্তা করি, সেটি জাতির জানা উচিত। সে লক্ষ্যেই আমরা বাজেটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চাই।”

সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলটির সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সরকার এই বাজেট উত্থাপন করতে যাচ্ছে। ফলে দেশের মানুষ এই বাজেটে জুলাই আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখতে চায়। ঋণ-নির্ভরতা কাটিয়ে দেশের মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাজেট তৈরির তাগিদ দেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে ড. এ কে এম ওয়াসরেসুল করিম বলেন, আগামী বাজেটে যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই আসবে প্রত্যক্ষ করের (ভ্যাট) মাধ্যমে। এই টাকা গরিব ও মধ্যবিত্তের পকেট থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা রাজস্ব আদায়ে কোনো সৃষ্টিশীল বা বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে চান না। তারা প্রথাগত উৎসের বাইরে গিয়ে কষ্ট করতে চান না বলেই সহজ মাধ্যম হিসেবে ভ্যাটকেই আয়ের প্রধান উৎস বানাচ্ছেন।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, করের হার বাড়ানো কোনো বাহাদুরি নয়। এটি সবাই পারে। কিন্তু করের আওতা বাড়াতে দক্ষতা লাগে। যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের কাছ থেকে আদায় নিশ্চিত করুন।” তারমতে, বড় বাজেটের চেয়ে একটি ছোট কিন্তু কোয়ালিটিফুল (গুণগত মানসম্পন্ন) বাজেটই এই মুহূর্তে দেশের মানুষের বড় প্রত্যাশা। 

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “আমলারা যেভাবে বাজেট প্রণয়ন করেন, তাতে কেবল তাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলনই দেখা যায়। সেখানে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকে না। আমাদের ট্র্যাডিশনাল বাজেট ভাবনা থেকে বের হওয়ার পথ দেখাতে হবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্নীতি ও অপচয় বাড়বে। এতে প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও আলোচনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, এসএটিভির বার্তা সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাবলু, আউটলুক বাংলার প্রধান সম্পাদক লুৎফুল কবির সাদী, বাংলাদেশ পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সদরুল হাসান এবং ইআরএফের সাবেক সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা প্রমুখ।

পিএস