• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

বোনকে ধর্ষণ চেষ্টা, ছেলের পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করলো মা-বাবা


মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানুয়ারি ৯, ২০২১, ০৮:০৫ পিএম
বোনকে ধর্ষণ চেষ্টা, ছেলের পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করলো মা-বাবা

ছবি : গ্রেফতার ছেলের বাবা

মুন্সীগঞ্জ : নিখোঁজের ১৮ দিন পর শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী বাজার সংলগ্ন নয়াগাঁও এলাকায় বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হাসান (১৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মাত্র একদিনের মাথায় হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটির বাবা মা ও বোন তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রইছ উদ্দিন।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ছেলেটির বাবা শামীম মিয়া (৪০), মা হাসিনা বেগম (৩৮) ও ছোট বোন শিলা (১৫) কে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ঘটনার ১৮দিন পর শুক্রবার লাশ উদ্ধার করেন তারা। তবে বাড়ির এতো কাছে লাশ পাওয়া যাওয়া এবং হত্যাকান্ড নিয়ে স্বজনদের অসংলগ্ন বক্তব্যে প্রথম থেকে সন্দেহ হতে থাকে তাদের।

ছেলেটির মা হাসিনা বেগম বলেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন প্রতিবেশী শাহ আলম তার ছেলেকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রেখেছে এতে তাদের সন্দেহ আরও বাড়তে। তবে ছেলেটি মাদকাসক্ত থাকায় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ছেলের সাথে বিরোধ থাকায় সবগুলো বিষয় মাথায় নিয়ে এগোতে থাকেন তারা। 

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার চারজনকে আটক করা হয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটির বাবা-মা এবং বোন তাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, মাদকাসক্ত হাসান গত ২১ ডিসেম্বর রাতে তার আপন ছোট বোন শিলা(১৫) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে যাওয়ার পথে তাকে জড়িয়ে ধরে। এ সময় সে তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে তার আত্মচিৎকারে বাবা-মা ছুটে আসেন। এ সময়ে রাগের মাথায় হাসানের মা হাসিনা বেগম তাকে ঘরে নিয়ে মুখে বালিশ চেপে ধরেন আর বাবা শামীম মিয়া তার হাত-পা ধরে রাখেন এবং ছোট বোন শিলা ধারালো ছুরি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং গামছা উদ্ধার করেছে।

মুন্সীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাকুজ্জামান জানান, নিহতের স্বজনরা প্রতিপক্ষ এক জনের উপর দায় চাপাতে চেয়েছিল। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বার বার পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে তবে তাদের কথায় বিভ্রান্ত হয়নি পুলিশ। সঠিক তদন্ত শেষে এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত করেছেন তারা।

এদিকে, ছোট বোনকে ধর্ষণ চেষ্টা আর বাবা মা কর্তৃক নিজের ছেলেকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ বিষয়টিকে সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পরিনতি বলে অভিহিত করেছেন। আটককৃতদের রোববার (১০ জানুয়ারি) কোর্টে প্রেরন করা হবে।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ