• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

অপহৃত মেয়েকে ফিরে পেতে নির্মাণশ্রমিক বাবার আকুতি


গাজীপুর প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৭:১৯ পিএম
অপহৃত মেয়েকে ফিরে পেতে নির্মাণশ্রমিক বাবার আকুতি

ছবি (প্রতীকী)

গাজীপুর : ‘অপহরণের’ শিকার মেয়েকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপির বাড়ি গ্রামের নির্মাণশ্রমিক আমিনুল হক। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আমিনুল আকুতি করে বলেন, ‘মামলা তুইলা নিতে ভয় দেহাইতাছে মোজাম্মেল। বলতাছে, মামলা না তুললে আমারে গ্রাম ছাড়া করবে। পুলিশ আমার মাইয়াডারে উদ্ধার করতে পারতাছে না। অপহরণকারীরা তারে নির্যাতন করতাছে। আমারে ফোন কইরা কইতাছে বাবা আমারে তারাতারি উদ্ধার করো। আমার মাইয়াডারে ওরা মাইরা ফালাইব।’ 

সে অভিযোগ করেন, কোচিং থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৪০ দিন আগে নিখোঁজ হয় তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে। জানতে পারেন একই এলাকার মো. নুরু মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছেন। থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়ের করেও এখনো মেয়েকে উদ্ধার করা যায়নি।

আমিনুল হক জানান, গত ৯ আগষ্ট সকালে কোচিং থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তার মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ওই দিনই তিনি শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জানতে পারেন তার মেয়েকে একই এলাকার মো. নুরু মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক তুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি জিডির তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হককে জানান। কিন্তু এসআই নাজমুল হক তার মেয়েকে উদ্ধারের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন আমিনুল হক।

তিনি জানান, একাধিক বার থানায় মামলা করতে গেলে তাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করা হয়নি। বাধ্য হয়ে ২৫ আগস্ট গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আদালতের নির্দেশে শ্রীপুর থানায় তিন সেপ্টেম্বর মামলাটি এফআইআরভূক্ত হয়।

মামলায় আসামি করা হয়, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের মো. মোজাম্মেল হক, মো. নুরু মিয়া এবং তার স্ত্রী মোছা. অলিমননেছাকে।

ছাত্রীর বাবা আমিনুল হক বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে মোজাম্মেল ও তার সহযোগিরা পলাতক রয়েছে। ৪০ দিন পরও পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি। এখন মামলা তুলে নিতে অপহরণকারীরা মেয়েকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মেয়ে মোবাইলে জানিয়েছে অপহরণকারীরা তাকে নির্যাতন করছে। যেকোনো সময় মেয়েকে খুন জখম করে ফেলতে পারে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেল জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি আসামি ধরতে গিয়ে গুরুত্বর আহত হন। চিকিৎসাধীন থাকায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার কিংবা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া জানান, তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার করতে বিলম্ব হয়েছে। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোনালীনিউজ/এসএন

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System