• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত হবেন হাদিসুর


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২২, ০৯:৫৪ পিএম
দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত হবেন হাদিসুর

ঢাকা: ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বেতাগীর পথে রয়েছে। সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট (হ্যাঙ্গার গেট) দিয়ে বের হয়ে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে, আজ দুপুর ১২টার দিকে তার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে রোমানিয়া থেকে ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে ১টা ১১ মিনিটে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিষয়টি জানিয়েছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল আহসান।

হাদিসুরের মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন তার ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স, চাচা মিজানুর রহমান জীবন, খালা শিরিন আক্তার মমতাজ, খালাতো ভাই সোহাগ হাওলাদার। তাদের সঙ্গে এসেছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন।

এদিকে হাদিসুরকে শেষবারের মতো দেখতে বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের তার নিজ বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও আসছে তার বাড়িতে।

আবেগাপ্লুত স্থানীয়রা জানায়, হাদিসুরের এ মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। এলাকার একজন মেধাবী হারিয়েছেন বলেও জানান তারা।

প্রতিবেশী মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, হাদিসুর ছিল গোবরে পদ্মফুল। প্রান্তিক গ্রামে থেকেও আলো ছড়িয়েছে সে। স্কুলজীবন থেকে সে ছিল তুখোড় মেধাবী। তার মৃত্যুতে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র খষে পড়ল। আমরা এক নক্ষত্রে হারালাম।

রাত ১০টা নাগাদ হাদিসুরের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় বাড়ি সংলগ্ন মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

এ বিষয়ে হাদিসুরের চাচা মাকসুদুর রহমান ফোরকান সাংবাদিকদের বলেন, হাদিসুরে মরদেহটি ইতোমধ্যে বরগুনার পথে। রাত আনুমানিক ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে পৌঁছাবে। তার দাদা-দাদির কবরের পাশেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাল জানাজা শেষে সেখানে শায়িত হবে হাদিসুর।

প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ রাতে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকেপড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলা চালায় রুশ সেনারা। এ হামলায় জাহাজের প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। 

পরদিন ৩ মার্চ সন্ধ্যায় অক্ষত ২৮ নাবিক এবং হাদিসুরের মরদেহ ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়। সেখানে হাদিসুরের মরদেহ রেখে বাকি নাবিকদের নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত ৯ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে তারা দেশে ফিরেছেন।

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System