• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

সুনামগঞ্জে বাড়ছে পানি, তলিয়ে যাচ্ছে জমির ফসল


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২২, ০৯:৫৬ পিএম
সুনামগঞ্জে বাড়ছে পানি, তলিয়ে যাচ্ছে জমির ফসল

সুনামগঞ্জ: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ওই পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৫.৫৩ সেন্টিমিটার। ২০১৭ সালের পর গত কয়েক বছরেও নদীর পানি এমন উচ্চতায় প্রবাহিত হয়নি।

নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বড় ৪২টি হাওরসহ ছোট বড় প্রায় দেড়শ বোরো ফসলের হাওর হুমকিতে পড়েছে। দিরাইয়ের তুফানখালি, তাহিরপুরের গুরমা এক্সটেনসন, মাটিয়ান হাওরসহ অসময়ে নির্মিত দুর্বল বাঁধ নিয়ে উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন লাখো কৃষক। 

এদিকে উজানের পানি নেমে এসে দাড়াইন নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ৫০০ একর বোরো ফসলের জমি তলিয়ে গেছে শাল্লা উপজেলায়। 

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব, ভাইস চেয়ারম্যান দিপু রঞ্জন দাস, কৃষি অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু পানির প্রবল স্রোতের কারণে বাঁধ রক্ষার শেষ চেষ্টা করা সম্ভব হয়নি।
 
সোমবারও দাড়াইন নদীতে প্রায় ৪ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২/৩ দিন এই হারে পানি বৃদ্ধি হলে উপজেলার ছোট ছোট আরো বেশ কয়েকটি হাওর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাওরগুলো হলো, শাল্লা সদর নিকটবর্তী জোয়ারিয়া, কৌইয়া, কোনারবন, পুইট্টা, নাইপতার চর। এসব হাওরের প্রায় ২ হাজার একর বোরো ফসলি হুমকির মধ্যে রয়েছে।

শাল্লা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দিপু রঞ্জন দাস বলেন, বাঘা বন হাওরটিকে রক্ষা করা যায়নি। নদীর পার নিচু হওয়ায় পানির প্রবল চাপে বাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ৫০০ একর জমি ছিল বলে এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। 

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবো সভাপতি মো. আবু তালেব বলেন, নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড বাতাসে বেড়িবাঁধের বাইরে বাঘা বন নামে নিচু হাওরটি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা হাওরটি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি কিন্তু রক্ষা করতে পারিনি।

সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি-মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র চার মিলিমিটার, কিন্তু ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ১৫২ মিলিমিটার। এই বৃষ্টির পানি নিচের দিকে নামছে আরও সুনামগঞ্জে নদীর পানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে হাওরের বিপৎসীমা ৬.০৫ সেন্টিমিটার। সোমবার বেলা ২টায় ওই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫.৭৪ সেন্টিমিটার।

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন রোববার বিকেলে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়া-মাটিয়ান হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। সোমবার দুপুরে জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মনিটরিং কমিটির জরুরি সভায় হাওরের বাঁধ রক্ষায় নিয়োজিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ফসল রক্ষা বাঁধে অবস্থান নেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System