• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বোরো ধানের ক্ষতি


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি এপ্রিল ১০, ২০২২, ০২:০০ পিএম
ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বোরো ধানের ক্ষতি

সিরাজগঞ্জ : এনজিও থেকে লোন কইরা মাইনসের কাছে থেকে এক বিঘা জমি লিজ নিছি। সারা বছরের ধান ঘরে তুলবো। সার ও বিষ গুলো বাকিতে নিয়ে খেতে দিছি। ধান হলে ব্যাচা টেকা (টাকা) শোধ করবো। আর সেই ধান ভাটার ধোঁয়ায় নস্ট হয়ে গেল। আমরা এখন খাবো কি, এনজিও’র কিস্তি শোধ করবো কী দিয়া ?’ নিজ হাতে লাগানো বোরো খেতের সামনে বসে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মাটিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান।

শুধু লুৎফর রহমান নন, উপজেলার মাটিয়া গ্রামে ২০জন কৃষকের প্রায় ১২বিঘা জমির বোরো ধান নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: মোফাজ্জল হোসেন সরকারের ইট ভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জাল হোসেন সরকারের ইটভাটার বিরুদ্ধে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবুজ খেতের ধানগাছ ধোঁয়ার কারণে লালচে হয়ে গেছে। পাতা কুঁকড়ে গেছে। ধানের শিষ পরিণত হয়েছে চিটায়। শুধু ধান নয়, নষ্ট হয়েছে আম ও নারকেল গাছ। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ধোঁয়া বন্ধ হলেও বিষাক্ত রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় এখনো ফসলের খেতসহ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আবু সাইদ, জয়নাল, রবিউল ইসলাম, লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, মাটিয়া গ্রামে ঘনবসতি এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মেসার্স এম.এম ব্রিকস নামের ইটভাটার চিমনি দিয়ে বিষাক্ত এবং দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়ায় তাঁদের খেতের ফসল লালচে হয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে। গাছপালার পাতা কুঁকড়ে গেছে। তারা আরো জানান, আর মাত্র ২০-২২ দিন বাদেই ধান কাটা শুরু করব। আমরা চাই ভাটার মালিক আমাদের ক্ষতিপূরণ দিক। আমরা এলাকায় ভাটা দেখতে চাই না। দ্রুত ইটভাটা বন্ধ করা হোক।  

নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেসার্স এম.এম ব্রিকসের মালিক মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘আমার ভাটায় বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা আছে। তারপরও যেহেতু কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, আমরা চেষ্টা করব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের প্রাথমিকভাবে ধানের জন্য বিভিন্ন ঔষধ দিতে বলা হয়েছে। এতে যদি ফসলি ধান রক্ষা না হয় তাহলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আমার ক্ষমতা নেই। তাই সে বিষয়ে ইউএনও মহোদয় দেখবেন।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেজবাউল করিম জানান, কৃষকদের অভিযোগটা পেয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ওই ইটভাটার বিরুদ্ধে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System