• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯

আখাউড়ায় ধান কাটতে আসছে শ্রমিক


আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি এপ্রিল ২২, ২০২২, ০৫:১৬ পিএম
আখাউড়ায় ধান কাটতে আসছে শ্রমিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : হাতে কাস্তে,কাঁধে বাশের তৈরী ভারজোত, সেই সাথে রয়েছে ব্যাগ। ওই ব্যাগে আছে শার্ট,গেঞ্জি, গামছা আর লুঙ্গী । চলাফেরা করতে সামান্য টাকা পয়সা ও তারা রাখছেন সঙ্গে। আবার অনেকের সাথে আছে কিছু শুকনো খাবারও। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। তারা সেখানে পৃথক কয়েকটি স্থানে দল বেঁধে কাজ করতে বসে আছেন। তারা কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে লোকজন এসেছেন ময়মনসিংহ,কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ,হবিগঞ্জও সুনামগঞ্জ এলাকা থেকে। এ উপজেলায় ধান কাটা শুরু হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রেলপথে দিয়ে তারা দিনমজুরের কাজ করতে আসছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষি শ্রমিকের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্রমিক ও হারভেস্টার মেশিন থাকায় পাকা ধান কেটে গোলায় তুলতে তুলতে কৃষকদের আর বিপাকে পড়তে হচ্ছে না।
 
কৃষি শ্রমিকরা জানায়, তাদের এলাকায় এখনও ধান কাটা শুরু হয় নি। শুরু হতে তাদের আরো ২০-২৫ দিন সময় লেগে যাবে। বাড়িতে অলস সময় পার করার চাইতে টাকা উপার্যনে দল বেধে কাজের জন্য ছুটে আসেন । তাদের মধ্যে বেশী ভাগ লোকজন মেইল কিংবা লোকাল ট্রেনে করে এখানে আসেন। এরপর তারা দল বেঁধে স্টেশনে কাজের জন্য বসে থাকছেন। যাদের প্রয়োজন তারা মজুরি ঠিক করে এখান থেকে তাদেরকে নিয়ে যায়।

রেলওয়ে স্টেশনে কাজের জন্য অপেক্ষামান কিশোরগঞ্জের মো. করামত আলী বলেন, আমাদের এলাকায় এখন ধান কাটা শুরু হয়নি। তাই কিছ ুদিন কাজ করতে এখানে ট্রেনে করে এখানে আসা। তাদের সঙ্গে ১২ জন লোক আছে। কাজের জন্য সবাই সকাল থেকেই স্টেশন এলাকায় বসে আছেন। লোকজন আসছে কিন্তু ভাল মজুরি নির্ধারন না হওয়ায় কোথাও যায়নি বলে জানায়। এখন ধান কাটার মৌসূম হওয়ায় মজুরি ৫শত টাকার উপর চলছে ।

শ্রমিক সবুজ মিয়া বলেন বাড়ি থেকে গত ৮ দিন আগে এখানে তার আসা হয়। এরমধ্যে কর্ণেল বাজার এলাকায় খোরশেদ মিয়ার বাড়িতে ৫৫০ টাকা মজুরিতে ৬ জন লোক কাজ করেন। বৃহস্পতিবার তাদের কাজ শেষ হওয়ায় রেলওয়ে স্টেশনে আসছি অন্যত্র কাজ করতে।

স্টেশনে অপেক্ষামান কৃষি শ্রমিক মো.আলাল মিয়া বলেন, অভাব অনটনে চলছে তার সংসার। তাছাড়া এলাকায় কোন কাজ না থাকায় কাজ করতে বাড়ি থেকে এসেছেন । এরমধ্যে কাজ ছাড়া তার স্টেশনে ১ দিন চলে যায়। পরে দেবগ্রাম এলাকায় দুই বাড়িতে ১১ জন কৃষি শ্রমিকের কাজ ঠিক হলে তাদের সাথে চলে যায়। এই এলাকাসহ আশপাশে ১৫-২০ দিন কাজ করতে পারি তাহলে ভালো টাকা উপার্যন করতে পারব।

কৃষকরা জানায়, যেখানে আগে দৈনিক মজুরি ছিল ৩৫০ টাকা এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫৫০ থেকে ৬শ টাকায়। শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির ফলে তাদের লোকশান গুনতে হবে।

এদিকে দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুত ,মজুরি, সার ও কিটনাশকসহ কৃষি উপকরনের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে চলতি মৌসূমে বোরো ধান আবাদ করে কৃষকরা। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান ন্যায্য মূল্য না পেলে তাদের লোকশান গুনতে হবে বলে জানায়।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ মৌসূমে পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ মৌসূমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

এ উপজেলায় কৃষক সংখ্যা বেশী। তবে এ সব কৃষক কৃষি শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় প্রতি মৌসুমে বিভিন্ন জেলা থেকে এ উপজেলায় শ্রমিক আসেন ।

উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. জাফর মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ মৌসূমে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করা। প্রতিটি জমিতে উন্নত বীজ দেওয়ায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আকাশের যে অবস্থা তাই শ্রমিক দিয়ে ধানকাটা শুরু করেছেন বলে জানায়। শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। 

কৃষক মো: বাবরু মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধান ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। এরইমধ্যে ৬-৭ বিঘা জমির ধান কাটার উপযুক্ত হয়েছে। জমির চারদিকে কাঁদা থাকায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কাটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে কাটতে হচ্ছে। এজন্য শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে জনপ্রতি ৫৫০ টাকা। তিনি বলেন জমিতে ধান ফলাতে চাষ,সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক, নিরানি, ধান কাটা মাড়াই সহ বিভিন্ন হাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন যদি ধানের ন্যায্য মূল্য না পায় তাহলে লোকসান গুণতে হবে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ উপজেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন থাকায় ধান কাটতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুল থাকলে এ মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System