• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

এত লাশ দেখেনি পঞ্চগড়


পঞ্চগড় প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২, ১০:৪০ এএম
এত লাশ দেখেনি পঞ্চগড়

পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আরও ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ নিয়ে ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় যখন উদ্ধারকাজ শেষ করা হয় তখন পর্যন্ত চারজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। আজ বুধবার আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

এ নৌ-দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শনাক্ত করার পর মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীপঙ্কর কুমার রায় জানান, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দিনে ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বোদা উপজেলার ৪৫, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১৭, আটোয়ারী উপজেলার ২, পঞ্চগড় সদরের ১ এবং ঠাকুরগাঁও সদরের ৩ জন। তিনি আরও জানান, তাদের তালিকা অনুযায়ী চারজন নিখোঁজ রয়েছে। তবে স্বজনদের হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি।

এ পর্যন্ত যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে নারী ৩১, শিশু ২০ ও পুরুষ ১৭ জন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে।

গতকাল যে ১৮ মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তারা হলো শৈল বালা (৫১), সনেকা রানী (৫৫), হরি কিশোর (৪৫), শিল্টু বর্মণ (৩২), মহেন চন্দ্র (৩০), ভূমিকা রায় পূজা (১৫), আঁখি রানী (১০), সুমি রানী (৩৮), পলাশ চন্দ্র (১৫), ধৃতি রানী (১০), সজীব রায় (১০), সবিতা রানী (৩০), জোসনা রানী (৩২), মনিভূষণ (৪৬), দোলা রানী (৫), মনিকা রানী (৩৮), মহিন্দ্রনাথ (৫৬) ও রূপালী রানী (২৫)।

উদ্ধার অভিযান ও উদ্ধার হওয়াদের তথ্য সরবরাহের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে খোলা তথ্য কেন্দ্রের সামনে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে গত দুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন বোদা উপজেলার মাড়েয়া কাউয়াখাল গ্রামের সন্তোষ কুমার।

তিনি জানান, ওই দিন নৌকায় তার পুত্রবধূ সুমিত্রা ও নাতি সজীব (৭) ছিল। পুত্রবধূর লাশ পেলেও এখনো নাতির লাশ খুঁজে পাননি তিনি।

বোদা পৌরসভার কলেজপাড়া স্কুলশিক্ষক দীপক চন্দ্র রায় ও ছন্দা রানী দুই মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। তাদের বড় মেয়ে পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ভূমিকা রানী রায় ও বৃষ্টি রানী রায় মারা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান জানান, তিনটি ইউনিটের ৭০ জনের ডুবুরি দল তিন ভাগে ভাগ হয়ে তৃতীয় দিনের মতো গতকাল সকাল সাড়ে ৫টায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পর্যন্ত তল্লাশি চালায়। অবশ্য বেশিরভাগই মরদেহ ঘটনাস্থলের আশপাশের ভাটি থেকে এবং দুটি লাশ বীরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লাশ ভেসে ওঠে। ভাটিতে হলেও লাশ ভেসে উঠবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক জানান, নদীর পানি নামতে শুরু করছে। তলদেশে কাদার মধ্যে আটকে পড়া মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ভাটির দিকে ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান পরিচালনা করছেন।

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসবের আগে মহালয়ার দিন গত রবিবার দুপুরে বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। ওই নৌকায় করে নদীর অন্যপাড়ে বড়শশী ইউনিয়নের বরদেশ্বরী মন্দিরে ধর্মীয় সমাবেশে যাচ্ছিল পুণ্যার্থীরা। ঘটনার দিন ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার উদ্ধার করা হয় আরও ২৫ জনের লাশ।

ওই দিনই দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায়কে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন গতকাল দুপুরে আবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, নৌকাডুবিতে যেসব পরিবার কর্মক্ষম মানুষ হারিয়েছে তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী বছরে ওই ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণ শুরু হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School