• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

চারটি ব্যাটারির জন্য অটোরিকশা চালককে গলাকেটে হত্যা


আনোয়ার হোসাইন সোহেল নভেম্বর ২০, ২০২০, ০৮:৪৬ পিএম
চারটি ব্যাটারির জন্য অটোরিকশা চালককে গলাকেটে হত্যা

ঢাকা : দেশের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশার সম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে অটোরিকশায় ব্যবহৃত ব্যাটারির দামও। প্রতিটি অটোরিকশায় চারটি করে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। যার অনুমানিক দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। যেকারণে ছিনতাইকারী চক্রের নজর এখন ওই সব অটোরিকশার দিকে। গত জুলাই মাসে ১৩ তারিখ তেমন একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের হাতে প্রাণ হারায় আশুলিয়ার অটোরিকশা চালক শেখ মিন্টু (৩৫)। 

নিহত মিন্টু শেখ নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার পানপাড়া গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি সাভারের ছায়াবিথি এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে অটোরিকশা চালাতেন।

শেখ মিন্টু হত্যার পর তার স্বজনরা জানান, মিন্টুর সঙ্গে এলাকার কারো কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না। যাতে সে হত্যা বা খুন হতে পারেন। দীর্ঘ প্রায় ৪মাস এই হত্যাকান্ডের কোনো প্রকার ক্লু বের করতে পারছিল না পুলিশ। পরে মামলার দায়িত্ব নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)।  

এবার একাধিক টিমের নিরলশ প্রচেষ্টায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক শেখ মিন্টু খুনের উদঘাটন করেছে পিবিআই। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাহিদ (২৭) নামে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিনতাইকারী চক্রের দলনেতা গ্রেফতার ও হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরায় পিবিআইএর ঢাকা জেলার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান, পিবিআই’র পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম।

নাহিদ সাভার পৌরসভা, থানা-সাভার উত্তর জামসিং, ১ নং ওয়ার্ডের ইবনে মিজান আল মামুনের ছেলে। 

পিবিআই কর্মকর্তার ভাষ্য মতে, গত ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি ছিনতাইকারী চক্রের গ্রেফতারকৃত নাহিদ সহ দুইজন সদস্য আশুলিয়া থানাস্থ খোরশেদ কমিশনারের বাসার পাশে রশিদ মেম্বারের মোড় আর মোল্লা টাওয়ারের মাঝামাঝি জায়গা থেকে গেরুয়া যাওয়ার জন্য ব্যাটারি চালিত রিকশা ভাড়া করে। রিকশা চালক শেখ মিন্টু ২০০ টাকা ভাড়া চাইলে তারা রিকশা চালকের সাথে ১৭০ টাকা বলে রাজি করিয়ে উক্ত রিকশাযোগে রওনা হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্ধকার জায়গায় পৌঁছিলে তারা রিকশার ব্যাটারি ছিনতাই করবে। গেরুয়া যাওয়ার পথে রাস্তা খারাপ থাকায় রিকশাচালক মোকামটেক দিয়ে যায়। মোকামটেকের ভিতরে অন্ধকারগলি পথ দেখে সেই রাস্তা দিয়ে রিকশাচালক আর যেতে রাজী হয় নাই। সে রিকশা থামিয়ে ভাড়া দিতে বলে। কিন্তু তারা যেহেতু ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অটোরিকশাটি ভাড়া নেয় তাই তাদের কাছে ভাড়া দেয়ার মত কোন টাকা ছিল না। তারা ভাড়া না দেয়ায় রিকশাচালক চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। তখন নাহিদ তার সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে  শেখ মিন্টুর পেটে ও গলায়  কয়েকটা ঘাই দেয়। এসময় আশপাশ থেকে লোকজন দৌড়ে আসলে ছিনতাইকারীরা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের নিচে ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঝাউবনে ঢুকে যায়। কিন্তু যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে তাদের স্যান্ডেল ফেলে রেখে যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকুটি পাশের জলাশয়ে ফেলে দেয়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর আশুলিয়া থানায় ওই পরদিন মামলা নং-৩৯ দায়ের করেন নিহতের স্বজনরা। চলতি বছরের ১৪ জুলাই মামলাটি পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার অধিগ্রহণ করে এবং উক্ত ইউনিটে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রাশিদুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। 

পিবিআই শক্তিশালী গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, সংঘবদ্ধ রিকশার ব্যাটারি ছিনতাইকারী চক্রের হাতেই  রিকশা চালক শেখ মিন্টু এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।  

পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারসহ চৌকস টীম নিয়ে  অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটির তদন্তে মাঠে নামেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি ব্যাটারি ছিনতাইকারী চক্রের দলনেতা মো. আলী হায়দার ওরফে নাহিদ হাসান ওরফে নাহিদকে সাভার পৌরসভা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। 

প্রাথমিকভাবে নাহিদ স্বীকার করেছে, ছিনতাইকারী এই চক্রটি বেশ কিছুদিন যাবত ব্যাটারি ছিনতাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উক্ত ৩০-৪০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে আসছে। তারা শুধু ব্যাটারিই নয়, চালকের নিকট থাকা টাকা পয়সাও ছিনতাই করে।   

তারা ঘটনার দিন  শেখ মিন্টুর রিকশা ব্যাটারি ছিনতাই করার জন্য রিকশাটি ভাড়া করে এই রিকশায় উঠেছিল। কিন্তু রিকশাচালক অন্ধকার গলি রাস্তা দেখে আর যেতে না চাওয়ায় এবং চিৎকার চেচামেচির কারণে সে তার সাথে থাকা চাকু (সুইচ গিয়ার) দিয়ে পেটে ও গলায়  কয়েকটি ঘাই মারে। কিন্তু লোকজন দৌড়ে আসতেছে দেখে তারা ঘটনাস্থল থেকে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের নিচের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঝাউবনে ঢুকে যায়।এরপর অভিযানিক দল নাহিদের স্বীকারোক্তি মতে  হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু (সুইচ গিয়ার) ও সেন্ডেল উদ্ধার করা হয়।

এবিষয়ে পিবিআইর পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম জানান, আসামী নাহিদের দেয়া তথ্য মতে পলাতক সহযোগিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সোনালীনিউজ/এএস