• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮
abc constructions

অনলাইনে বাড়ছে শিশু যৌন হয়রানি


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২১, ০৩:৩৫ পিএম
অনলাইনে বাড়ছে শিশু যৌন হয়রানি

ঢাকা : অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ, হয়রানি এবং নির্যাতন বেড়েছে প্রায় চার গুণ।  করোনাকালে ৩০ শতাংশ শিশু কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের পাঁচটি জেলায় এ জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পায়।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় আইন ও সালিস কেন্দ্র। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিস কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক অ্যাডভোকেট নীনা গোস্বামী।

২০২০ সালে একই সময়ে আসকের চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ মেয়েশিশু অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ করোনা মহামারী শুরুর পর এই হার প্রায় চার গুণ বেড়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির শিশু অধিকার ইউনিটের সমন্বয়ক অম্বিকা রায় বলেন, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলেও সেখানে অনলাইনে শিশুদের দ্বারা শিশু নির্যাতন বিষয়টিকে চিহ্নিত করে আলাদা কোনো বিধান রাখা হয়নি। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। বেশি বয়সি শিশুরা কম বয়সি শিশুদের চেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার। তবে সার্বিকভাবে সব শিশুই ক্ষতিকর কনটেন্ট, যৌন হয়রানি এবং নিপীড়নের আশঙ্কায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছর জানুয়ারি মাসে আসকের শিশু অধিকার ইউনিট ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা জেলায় সংক্ষিপ্ত জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের মূল লক্ষ্য ছিল করোনাকালে শিশুদের অনলাইনে ঝুঁকির ভয়াবহতা সম্পর্কে বাস্তব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা।

পুরো জরিপ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ অঞ্চল এবং তথ্যদাতা বাছাইয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী (পারপাসিভ স্যাম্পলিং) এবং স্বাধীন (র্যানডম স্যাম্পলিং) উভয় ধরনের গবেষণা নমুনায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। জরিপে ১০৮টি শিশুর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬১টি কন্যাশিশু এবং ৪৭টি ছেলেশিশু।

তথ্যদাতা শিশুদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ১৭ শতাংশ কর্মজীবী শিশু। ৬ শতাংশ ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। আসকের ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী শিশুদের ৩০ শতাংশ জানিয়েছে, করোনাকালে তারা কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১২ শতাংশ শিশু এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নিপীড়িত শিশুদের ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হচ্ছে কন্যাশিশু, ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছেলেশিশু।

ওই জরিপের ফলে দেখা যায়, করোনাকালে শিশুরা যে ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শিশুদের ব্যক্তিগত ও অসংবেদনশীল তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করা, অনলাইনে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়ন করা, অশালীন প্রস্তাব, সাইবার বুলিং ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি এবং যৌনতাবিষয়ক ছবি বা তথ্য ইত্যাদি।

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকালে অনলাইনে নিপীড়নের শিকার শিশুদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে হয়েছে। অনলাইনে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে ৪১ শতাংশ তাদের অভিভাবক ও পরিবার পরিজনকে অবহিত করেছে। ৬ শতাংশ নিপীড়িত শিশু বা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জরিপে তথ্য প্রদানকারীদের ৫৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা নিজ ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাব ইত্যাদি থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে।

তথ্যদাতাদের ৮৪ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে। শতভাগ শিশুই ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহার করে। পাশাপাশি ৩৮ শতাংশ শিশু ইমো এবং ১৬ শতাংশ শিশু হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। যেসব শিশু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশের নিজস্ব আইডি রয়েছে।

তথ্যদাতার মধ্যে ৯৪ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, কোভিড-১৯ কোনো না কোনোভাবে তাদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। জরিপ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসক অনলাইনে শিশু নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে ও প্রতিকার বিধানে কয়েকটি সুপারিশ উত্থাপন করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের ধরনগুলো চিহ্নিত করে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা, অভিভাবকসহ সব পর্যায়ের অংশীদারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, অভিভাবকদের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপস ব্যবহারে উৎসাহী করতে উদ্যোগ গ্রহণ।

এ ছাড়া রয়েছে অনলাইনে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার মামলাগুলো সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে পৃথকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করা। প্রাসঙ্গিক আইনগুলোতে অনলাইনে শিশু ও নারীদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সংশোধনী আনা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School